সোমবার, ১৯-নভেম্বর ২০১৮, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • আদালতে যাননি খালেদা জিয়া, আবার শুনানি কাল

আদালতে যাননি খালেদা জিয়া, আবার শুনানি কাল

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৩:০৩ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে হাজির হলেও দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে হাজির হননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার।
আজ বুধবার কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে খালেদা জিয়া এদিন আদালতে হাজির হননি।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এই মামলায় তার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেছেন। পাশাপাশি কারাগারে আদালত স্থাপন সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী বলেও আদালত স্থানান্তরের আবেদন করেছেন তারা।
মামলার শুনানি শেষে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, এই আদালত সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী বলে আমরা আদালত স্থানান্তর চেয়ে আবেদন করেছি। খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পূর্ব নিরর্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামীকাল মামলার পরবর্তী শুনানি নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সানাউল্লাহ মিয়া আরও বলেন, আমরা এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি। তবে আদালত জামিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শুনানির দিন ঠিক করেন।
এদিকে, এ মামলার অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলামের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা এ মামলা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন।
এর আগে, মামলার শুনানি থাকায় বুধবার সকাল থেকেই পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। এর মধ্যে সকাল ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এবং পরে সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে হাজির হন।
এর আগে, গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো নাজিমউদ্দিন রোডের এই পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি আর আদালতে হাজির হতে পারবেন না। আদালত তাকে যা খুশি সাজা দিতে পারেন। তার আইনজীবীরাও সেদিন উপস্থিত হননি আদালতে।
এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষ কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করে। 
রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া এই মামলায় বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে শুনানির জন্য হাজির হতে পারছেন না  এ পরিস্থিতিতে বিচার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা আদালতকে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ সেপ্টেম্বর এই কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। যদিও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেন, তারা আদালত স্থানান্তরের কোনো নোটিশ পাননি। সে কারণে ৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তারা কারাগারের আদালতে উপস্থিত হননি। পরে আদালত আজ ১২ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করে দেন।
এই মামলায় মোট আসামি চার জন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন— খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
শীর্ষনিউজ/এম