রবিবার, ২১-জুলাই ২০১৯, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতকড়া না পরানোয় আদালতে হইচই

ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতকড়া না পরানোয় আদালতে হইচই

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ জুন, ২০১৯ ০৮:০৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা: ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে উঠানো হলো বিশেষ নিরাপত্তায়। কাঠগড়ার সামনে দাঁড় করানো হলো তাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হৈ-চৈ দেখা যায়। অভিযুক্তকে কাঠগড়ায় নেওয়া হচ্ছে না কেন? হাতকড়া পরানো হলো না কেন? জানতে চান তারা। সঙ্গে সঙ্গে আদালতের নির্দেশে কাঠগড়ায় উঠানো হয় তাকে। আদালতের শুনানি চলা অবস্থায় সারাক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।
শুনানি শেষে বিচারক সাবেক এ ওসি’র জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 
সোমবার বাংলাদেশ বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ আগামী ৩০ জুন নির্ধারণ করেন।
এদিকে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাতকড়া পরানো হয়নি কেন? এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় আদালতে। 
মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনও হাতকড়া না পরানোয় বিষয়টির সমালোচনা করেন। তাকে কেন হাতকড়া পরানো হলো না জিজ্ঞাসা করলে এ আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাত হাতকড়া দিয়ে কেন আদালতে আনা হয়নি সে বিষয়ে পুলিশ ভালো জানেন। তবে পুলিশের কাছে আমার অনুরোধ ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে যেভাবে আদালতে আনা হয়েছে পরবর্তীতে অন্য অভিযুক্তদেরও যেন একইভাবে আনা হয়।’
এদিকে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের চত্বর আনা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে আবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর শুনানি শুরু হয়। মামলার বাদী সায়েদুল হক সুমন আদালতে বলেন, ‘আসামি যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেন তাহলে তিনি কেন এতোদিন আত্মগোপনে ছিলেন? তিনি পুলিশ বিভাগের কলঙ্ক।’ এ সময় তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন।
পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তিনি ভিডিও প্রচার করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি এটি প্রচার বা প্রকাশ করেন নাই। মূলত একটি মামলার এজাহার হলে পরবর্তীতে বাদী বিভিন্ন চাপের কারণে মামলা উঠিয়ে নেয়। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে মোয়াজ্জেম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তবে তিনি প্রচার করেন নাই। আর আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তিনি পলাতক ছিলেন। আসলে তিনি পলাতক ছিলেন না। তিনি আদালতে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। আদালতে আসার কোনও পরিবেশ ছিল না। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে হাইকোর্টের একটা টেন্ডার নম্বরও আছে। তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি হাইকোর্টে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। আসামি আদালতে হাজির আছেন। আমরা তার জামিনের প্রার্থনা করছি।’
শীর্ষকাগজ/জে