বৃহস্পতিবার, ১৭-অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • সম্রাটের চিকিৎসায় ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড

সম্রাটের চিকিৎসায় ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড পাওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের চিকিৎসার জন্য সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় সিসিইউর তিন নম্বর বেডে রয়েছেন সম্রাট।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল সোমবার গভীর রাতে সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে ঢামেকের নতুন ভবনের তিন তলায় হৃদরোগ বিভাগে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের নির্দেশনায় আজ সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

সকালে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফজালুর রহমান, ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম ও আর এম কে নিয়ে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে সম্রাটকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিসিইউয়ে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে আমরা  সকালে একটা ইনফরমাল মেডিকেল টিম গঠন করেছি। যেখানে আমাদের কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিওলজিস্ট সার্জন রয়েছেন। তাঁকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে সম্রাটের কন্ডিশন এখন স্ট্যাবল আছে। তবে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার অবজারভেশনে রাখব। এ ছাড়া তাঁর চিকিৎসার জন্য পরে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ডা. আফজালুর রহমান আরো বলেন, ‘১৯৯৮ সালে সম্রাট তাঁর হার্টের একটা বাল্ব রিপ্লেসমেন্ট করেছিলেন। আমরা এরই মধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছি ওনার বাল্বটা ভালো কাজ করছে। ওনার শারীরিক অবস্থার অন্য দিকগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেহেতু তিনি ব্যথার কথা বলেছেন, তাই আমরা তাঁর ব্যথার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার চেষ্টা করছি-ব্যথাটা ঠিক কতটুকু মারাত্মক বা সহনশীল।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকার সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের চলমান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। গত ৬ অক্টোবর রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকারা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে পরিবহন ব্যবসায়ী মুনির চৌধুরীর বাড়ি থেকে সম্রাট ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে আটক করার কথা জানায় র্যাব।

এরপর সেদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের তালা ভেঙে সম্রাটের কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অভিযান শেষে কার্যালয়ে ঢুকে দেখা যায়, সম্রাটের কার্যালয়ের বেড রুমের তোষকের নিচে ছয়টি গুলিসহ একটি পিস্তল পড়ে আছে। কার্যালয় থেকে এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা, দুটি ইলেকট্রনিক শক দেওয়ার যন্ত্র, ১৬ বোতল মদ, পাঁচ বান্ডেল তাস, পাঁচটি কার্তুজ ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া জব্দ করে র্যাব।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার রাত ৮টার দিকে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাতে তাঁকে কারাগারের আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়। কারাগারে এক রাত কাটানোর পর হাসপাতালে ঠাঁই হলো সম্রাটের।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই