মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৬ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • ‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনগত ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে জীবন দিতে হতো না’

‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনগত ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে জীবন দিতে হতো না’

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৪২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সেই সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নিহত নুসরাত জাহান রাফির দুই বান্ধবী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে দুই বান্ধবীসহ তিনজন সাক্ষ্য দেন। পরে আদালত আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল।

সাক্ষীরা হলেন- রাফির দুই বন্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি ও নিসাত সুলতানা এবং সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাদী।

আদালতে নাসরিন সুলতানা ফুর্তি বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্লীলতাহানির যে মামলা হয়েছিল, তার জন্য আমাদের থানায় ডাকা হয়। আমার সামনে রাফির ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই সময় নুসরাতকে বার বার বলা হচ্ছিল মুখ থেকে হাত সরাতে। সেদিন নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওসি মোয়াজ্জেম আমার মুখের নেকাপ খুলতে বলেন। আমি জিজ্ঞেস করি, কেন নেকাপ খুলতে হবে। ওসি বলেন, নেকাপ খুলে জোরে কথা বলতে হবে যেন তিনি শুনতে পান। এরপর নিশাতকে ডেকে তারও ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে আমরা চলে আসি। কিছুদিন পর নুসরাতের ভিডিও করার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই। ওসি মোয়াজ্জেম যদি ওই সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে নুসরাতকে জীবন দিতে হতো না।

নিশাত সুলতানা বলেন, নুসরাতের মামলার জন্য পুলিশ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকে। আমাকে, নুসরাতকে, ফুর্তিকে ও কলেজের প্রিন্সিপালকে থানায় নেয়া হয়। ওসি মোয়াজ্জেম প্রিন্সিপালকে অন্য রুমে নিয়ে বসান। আর ওসি আমাকে আরেক রুমে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে ১০/১৫ মিনিট পর আমাকে ডেকে নেন। ওই সময় ওসি মোয়াজ্জেম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার কথা ভিডিও রেকর্ড করেন। আমি ওসিকে জিজ্ঞাসা করি কেন ভিডিও করা হচ্ছে? উত্তরে তিনি জানান, মামলার স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। পাশের রুমে নুসরাত, ফুর্তিও ছিল। বের হয়ে ফুর্তিকে আমি জিজ্ঞেসা করি, তোরও কি ভিডিও ধারণ করেছে? উত্তরে হ্যাঁ বলে। এর কিছু সময় পর আমরা তিনজন চলে আসি।

ঘটনার কিছুদিন পর নুসরাতের ধারণ করা ভিডিওটা ইউটিউবে দেখতে পাই। এসব নিয়ে অনেক মানববন্ধনও হয়েছে। ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতের ভিডিও ধারণ করেন।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই