মঙ্গলবার, ১২-নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৭ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  •     ধর্ষিতার বাবা ছাড় দিতে চাইলেও ছাড়েনি আদালত

    ধর্ষিতার বাবা ছাড় দিতে চাইলেও ছাড়েনি আদালত

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:০২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : ধর্ষিতা শিশু মেয়েকে আদালতে নিয়ে এসে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ‘ধর্ষক’ চিকিৎসককে ‘ছাড় দিলে আপত্তি নেই’ বলে জানিয়েছিলেন দরিদ্র বাবা, তবে তাতে কান না দিয়ে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম শাসসুন্নাহার মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখানের ‘দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থা’ নামের ক্লিনিকের চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ তালুকদারের বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আলী আসগর স্বপন বলেন, “ধর্ষণের মামলায় আপসের কোনো সুযোগ নেই। মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত রয়েছে। ভিকটিম আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেছেন।”

শুনানিকালে মামলার বাদী ও ধর্ষিতা শিশুটির বাবা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, আসামিকে অব্যাহতি দিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেখে রেখেছিলেন তিনি।

তখন বিচারক তাকে বলেন, “আপনি কি মিথ্যা মামলা করেছেন? মুখ থেকে হাত নামিয়ে উত্তর দেন।”

নিরুত্তর বাদীর অভিব্যক্তিতে বিচারক আর কোনো প্রশ্ন না করে মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করে আসামিকে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দোষী না নির্দোষ? জবাব আসে: “নির্দোষ। ন্যায়বিচার চাই।”

পল্লী চিকিৎসকের সনদ নিয়ে ঢাকায় ক্লিনিক চালানো বিজয় কৃষ্ণ তালুকদার বরগুনা জেলার বামনা থানার চালিতা বুনিয়া গ্রামের জোগেন্দচন্দ্র তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার দক্ষিণখান থানা এলাকায় দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থা (ক্লিনিক) পরিচালনা করেন। আর ধর্ষিতা কিশোরী ওই এলাকার একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা জমি কেনা-বেচায় মধ্যস্থতার কাজ করলেও আর্থিকভাবে ততোটা স্বচ্ছল নয়।

মামলায় বলা হয়, ১৩ বছরের মেয়েটি চোখের আঘতের সমস্যা নিয়ে গত ২১ এপ্রিল দক্ষিণখান থানার হাজী মিল্লাত স্কুলের পাশের ওই ক্লিনিকে গেলে বিজয় কৃষ্ণ তার চিকিৎসা দেন। এরপরেও সমস্যা থাকায় মেয়েটি গত ২৩ এপ্রিল দুপুর আড়াইটায় আবার গেলে আসামি পরীক্ষা করে তার শরীরে স্যালাইন লাগান এবং তার বাবাকে একটি ইনজেকশন আনতে বাইরে পাঠান।

বাদী অনেক খোঁজাখুঁজির পর তা না পেয়ে সাড়ে ৩টার দিকে ফিরে এসে আধা ঘণ্টা পর স্যালাইন শেষ হওয়ায় মেয়েকে বাসায় নিয়ে যান।

“এরপর মেয়ে আরও অসুস্থ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, স্যালাইন দেওয়ার সময় ডাক্তার তাকে ধর্ষণ করেন।” আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও মেয়েটি একথা বলেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা ওই মাসের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করলে সেদিনই বিজয় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করা হলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২৬ মে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শক তৃপ্তি খান গত ৪ জুলাই মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেখানে মেডিকেল রিপোর্টের পাশাপাশি  ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই