শনিবার, ১৮-জানুয়ারী ২০২০, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • পরকীয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কারাগারে

পরকীয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কারাগারে

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : নিজের সহকারী এক জুনিয়র আইনজীবীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার জামিন নামঞ্জুর করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের যেকোনো একদিন তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস কায়সারের রিমান্ডও নামঞ্জুর করেন। নথি পর্যালোচনার পর এ মামলার আদেশ দেন আদালত।

দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে কায়সার কামালের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন- ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা খানসহ অর্ধ শতাধিক আইনজীবী।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউপির অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন হিরণ।

এর আগে দুপুরে বিএনপির এই নেতাকে আদালতে তুলে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে কায়সার কামালকে আটক করা হয়। কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তার সহকারী অপর আইনজীবী আতিকুর রহমানের দায়ের করা মামলায় পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান আরও জানান, ‘মামলায় আতিকুর রহমান প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। মামলার একমাত্র আসামি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আতিকুর রহমানের বাসায় যাওয়া-আসার সুবাদে কায়সার কামালের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় হয়। তার সূত্র ধরে কায়সার কামাল তার স্ত্রীকে নিয়মিত উপহার পাঠাতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সিনিয়র আইনজীবী কায়সার কামাল ও তার স্ত্রীর একটি অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে সেটি টের পান আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাদের দেখা করার দিন ছিল। এমন তথ্য জানতে পেরে স্ত্রী ও কায়সার কামালকে ফলো করতে করতে তিনি দেখতে পান তার স্ত্রীর অফিসের সামনে কায়সার কামাল। অফিসের সামনে দেখা করে দুজনে কথা বলার মধ্যেই হঠাৎ উপস্থিত হয়ে স্ত্রী ও কায়সারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কায়সারকে থানায় নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় কায়সারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা করেন আতিকুর। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্ত্রীর সঙ্গে কায়সারের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন এই আইনজীবী।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনাকারী দলে তিনি রয়েছেন। 

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী প্যানেলের এ সদস্য তারই জুনিয়র আইনজীবীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার ব্যক্তিগত নৈতিক অধঃপতন নিয়ে দলের মধ্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য আইনজীবী প্যানেল যখন নির্ঘুম কাজ করছে তখন অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় ব্যস্ত থাকা দলের প্রতি উদাসীনতা ছাড়া কিছুই নয়। দলের সমালোচকরা মনে করেন- ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের খবরে দলের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার এ কর্মকাণ্ডে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
শীর্ষনিউজ/এসএসআই