বুধবার, ১৯-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৬ অপরাহ্ন
  • রাজনীতি
  • »
  • মুক্ত খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না: মোশাররফ 

মুক্ত খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না: মোশাররফ 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৩:৪০ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ‘মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে’, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁকে মুক্ত করতে হবে।খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত প্রতীকী অনশনে এসব কথা বলেন তিনি। 
আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুই ঘণ্টার পূর্বঘোষিত এই অনশন কর্মসূচি শেষ হয় দুপুর ১২টার কিছু পরে। রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে দলটির উদ্যোগে। কোথাও কোথাও পুলিশি বাধার খবর পাওয়া গেছে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি কারাগারে অসুস্থ, তাঁকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি যেহেতু কারাগারে আছেন, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু চিকিৎসক দল বারবার পরামর্শ দেয়ার পরও সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
‘সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি চাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। তাই তাঁকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আবার ষড়যন্ত্র করছে ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করতে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশে আর ৫ জানুয়ারি মার্কা কোনো ভোটারবিহীন নির্বাচন হতে দেবো না। তাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, সরকার আতঙ্কিত হয়ে এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। লাখ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করছে। কয়েক দিন আগে প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের মানববন্ধন শেষে বিনা কারণে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এসব করছে সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের সময় শেষ। এখনই নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখুন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাই আপনাদের জনগণের সেবা করতে হবে। আপনারা আওয়ামী লীগের কর্মচারী নন। তাই সরকারের কথায় জনগণের ওপর নির্যাতন করবেন না, গ্রেপ্তার করবেন না। আপনারা জনগণের সেবক, জনগণের পক্ষে অবস্থান নিন।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজকে সব দল ঐক্যবদ্ধ। তাঁরা সবাই গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চায়। গোটা দেশ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। তফসিলের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে, সেনা মোতায়েন করে ইসি পুনর্গঠন করে এবং সরকারের পদত্যাগ করেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। 
এই অনশনে আরো উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, নিজানুর রহমান মিনু, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ইমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ খান, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।
এ ছাড়া প্রতীকী অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করেন ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।
শীর্ষনিউজ/এম