মঙ্গলবার, ১৯-নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৪ অপরাহ্ন
  • রাজনীতি
  • »
  • ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের খোঁজে ৩ বিশেষ কমিটি

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের খোঁজে ৩ বিশেষ কমিটি

shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ জুন, ২০১৯ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ, ঢাকা: আগামী দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে ও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুতের জন্য ছাত্রদল পুনর্গঠন শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পুরনো কমিটি। গঠন করা হয়েছে তিনটি বিশেষ কমিটি, যারা খুঁজে বের করবে ছাত্রদলের আগামী দিনের কান্ডারি। 
রোববার মধ্যরাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ সব কথা জানান।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিল-২০১৯ উপলক্ষে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, নির্বাহী সদস্য রাজিব আহসান।
বাছাই কমিটিতে আছেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান।
বাছাইয়ের পর সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করতে কাজ করবে আপিল কমিটি। এতে সদস্য হিসেবে আছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।
তারেক রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এ তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে- এমনটিই দাবি একটি দায়িত্বশীল সূত্রের।
ছাত্রদলে সাবেক কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, গত দুইমাসে দফায় দফায় বৈঠক করে ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ঠিক করার পন্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। এতে কাজ করে শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি। তবে অনৈক্যের কারণে এই কমিটির কাজ এগোচ্ছিল না। সর্বশেষ ঈদের আগে তারেক রহমান সরাসরি ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ৩১ মে গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্কাইপে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। পরে মাত্র তিন দিনের মাথায় পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের অভিমতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে সংগঠনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রতি নির্দেশ আসে। ওই নির্দেশনার পর ছাত্রদলের অভিজ্ঞ ও বয়স্ক নেতাদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। বয়স্ক ছাত্রনেতাদের কারও অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে অবহিত করে এ নির্দেশনা আসেনি। তারা তারেক রহমানের কাছে বয়স্কদের বাদ দেওয়ার ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করতে আবেদন করেছিলেন। এও সতর্ক করেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে।
কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বয়স্কদের আবেদনে সাড়া দেননি, উল্টো নতুন নেতৃত্ব বাছাই করারই সিদ্ধান্ত পাকা করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি অন্যান্য সংগঠনগুলোতেও হাত দেবেন এবং সরাসরি নির্বাচন করবেন’- এমন আশাবাদ জানালেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা, যিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধান বলছে, ছাত্রদলের কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে কারাবন্দি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সম্মতি নিয়েই দলের ‘ভ্যানগার্ড’কে চাঙ্গা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত ১২ বছর টানা ক্ষমতার বাইরে থাকার সময়টিতে ছাত্রদের যে অংশটি রাজনৈতিকভাবে জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছে, তাদেরকে সামনে আনতেই নতুন নেতৃত্বের খোঁজ শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড।
শামসুজ্জামান দুদু গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব আনতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটা সংগঠনের স্বার্থেই করা হচ্ছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের সমন্বয়েই বাছাই কমিটি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও আপিল কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের হাতেই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সংগঠনের প্রথম আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন তিনি। ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিতদের মধ্যে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ, গোলাম সারওয়ার মিলন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, বিএনপির হাইকমান্ড দলে গতি আনতে এবং স্পিড ধরে রাখতে নেতৃত্ব বাছাইয়ে ছাত্রনেতাদের যুক্ত করেছেন। সরাসরি কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের আগামী কমিটি হচ্ছে, এমনটিই এখন দৃশ্যমান।
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরের একনেতার ভাষ্য, “ছাত্রদলে নেতৃত্বের যে জট তৈরি হয়েছিল, তা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনুধাবন করেছেন এবং ব্যবস্থা নিয়েছেন। বয়স্কদের সামনে কত সংগঠন পড়ে আছে, তারা সরকারে ছিলেন, বিরোধী দলে ছিলেন। আমরা আনুষ্ঠানিক কোনও দলেই নেই। আমরা বিএনপিকে পেয়েছি সংসদের বাইরের একটি দল হিসেবে। ‘২০০০ সালের পরবর্তী যেকোনও বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে’, এমন শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছেন।
শীর্ষকাগজ/এম