রবিবার, ১৬-মে ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা উচিত

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০২১ ১১:২১ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের  সৌজন্যে: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় একজন লেখকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশের রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে এবার শুধু রাজপথই নয়, রাজপথের চেয়েও বহু গুণ উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে মানুষের দেহ মন এবং মস্তিষ্ক। ইতিমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন সম্পাদক পরিষদ। বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ বলেছে, আইনটির আপত্তিকর ধারাগুলো সংশোধন করা হলে হয়তো আজকের পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। তাই অনতিবিলম্বে আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছে পরিষদ। 
আইনটি যখন তৈরি হয়, তখন বিভিন্ন অধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক দল, সংবাদপত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সম্পাদক পরিষদও কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আইনটির আপত্তিজনক ও অস্বচ্ছ ধারাগুলো উল্লেখ করে ওইসব সংগঠনের তরফে বলা হয়েছিল, ধারাগুলো মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী, এমনকি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারাগুলো নিবর্তনমূলক এবং তাদের অপব্যবহারের সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই অনতিবিলম্বে সেগুলো সংশোধন করতে হবে। তখন আইনমন্ত্রী ইতিবাচক অভিমত দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদিনেও ওই বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধিত হয়নি। 
উল্লেখ্যে, লেখক মুশতাকের কারাগারে মৃত্যুর পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ৯টি অধিকার সংস্থা আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দেশেও নানামহল থেকে আইনটি বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে একটি আলাদা ও সুনির্দিষ্ট আইন থাকা যে দরকার, সে বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার বা বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনে তার ব্যবহারের আশংকা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। অপপ্রচার, মিথ্যা ও গুজব ঘটনা, মানহানি, প্রতারণা, ইভটিজিং, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ইত্যাদি অনেক কিছুই এই মাধ্যম হতে পারে। কমবেশি চলছেও। শুধু আমাদের দেশে নয়, অন্যান্য দেশেও। সবদেশেই সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমন ও অপরাধীদের নিরস্ত করার জন্য অনেক দেশেই আইন হয়েছে। কোথাও তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে পরিচিত। কোথাও নাম বিভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য ও কাজ অভিন্ন। সচেতন নাগরিক মহল, সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংগঠন ও সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সম্পূর্ণ বাতিল চায় না। তবে তাদের বক্তব্য হলো,  আইন অবশ্যই যথারীতি সংবিধানানুযায়ী ও জনবান্ধব হতে হবে। আইন যারা প্রয়োগ ও কার্যকর করবে, তাদের এ বিষয়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী হতে হবে। মানবিক ও সহৃদয় হতে হবে। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে যে আইনটি আমাদের দেশে হয়েছে, তার মধ্যে সৎ-উদ্দেশ্যের প্রণোদনা খুব কমই কাজ করেছে। বর্তমানে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে আইনটি যথেচ্ছই ব্যবহৃত হচ্ছে। শেষ কথা হলো অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করতে হবে। একে মানবিক ও জনবান্ধব করতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার সুযোগ রহিত করতে হবে। আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। শেষকথা হলো, আইনের অপব্যবহারমূলক ধারাসমুহ অবশ্যই বাদ দিতে হবে। ওইসব ধারা যতক্ষণ বহাল থাকবে ততক্ষণ এই আইন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে কাজ করবে নিঃসন্দেহেই।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৫ মার্চ ২০২১ প্রকাশিত)