বুধবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

নানা প্রতিশ্রুতিতেও থামেনি সীমান্ত হত্যা

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: গত ৪ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সীমান্তে একজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। ক’দিন আগে বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফ দুই বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করে। ১৪ জুলাই একই জেলার লোহাকুচি সীমান্তে আরেক বাংলাদেশি বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। অকারণে ও উপেক্ষাযোগ্য কারণে গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা বিএসএফ’র রীতিমত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে সবচেয়ে বিপদজনক সীমান্ত হিসেবে মনে করা হয়। এর কারণ, বিএসএফ’র বেপরোয়া আচরণ ও ভূমিকা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন মন্তব্যও করা হয়েছে যে, বিএসএফ’র সদস্যরা তাদের টার্গেট প্রাকটিসের নিশানা হিসাবে বাংলাদেশিদের ব্যবহার করছে। বিএসএফ’র হানাদারী তৎপরতায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের জান-মাল, ইজ্জত-সম্মানের এতটুকু নিরাপত্তা নেই। তারা বিএসএফ’র সন্ত্রাসের ভয়ে সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করা এবং হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে দু’দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনী পর্যায় ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের তরফে বারবারই এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না এবং হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি প্রতিপালনে ভারত কোনো সদিচ্ছার পরিচয় দেয়নি। তথ্য-পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দু’ দশকে বিএসএফ’র হাতে ১ হাজার ২৩৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০২০ সালে বিএসএফ ৪৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে এবং ৪৮ জনকে তুলে নিয়ে গেছে, যাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে বিএসএফ’র হাতে নিহত হয়েছে ৪৩ জন। 
ভারতের দেয়া প্রতিশ্রুতি যে কার্যত প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অস্বাভাবিক নয়। দু’ দেশের সরকারের তরফে একই দাবি করা হয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে রোল মডেল। শুধু তাই নয়, দু’ দেশের সম্পর্ক এযাবৎ কালের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত। তারপরও সীমান্তে এই নাজুক পরিস্থিতি, এই লাগাতার হত্যাকাণ্ড কেন? পর্যবেক্ষকের মতে, সরকারের অনুসূত নীতি-ব্যবস্থার মধ্যেই এর কারণ নিহিত রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের মতে, সরকারের ভারততোষণমূলক নতজানু নীতির কারণেই সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। 
ভারতের সঙ্গে শুধু বাংলাদেশের সীমান্ত আছে এমন নয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাড়াও কয়েকটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। অথচ, ওইসব দেশের সীমান্ত শান্ত ও স্থিতিশীল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওই সীমান্তগুলোতে গুলি চালায় না, মানুষ হত্যা করে না। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন, তার একটা কারণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা ভারতের বিএসএফ’র নেই। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী পাক-চীনের সীমান্তরক্ষীবাহিনীকে ভয় পায়। সে কারণেই সব সময় সংযত থাকে। 
শেষকথা হলো সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ এবং সীমান্ত নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী আছে। স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ তো আছেই। তাদের সবার কর্তব্য হলো, যে-কোনো মূল্যে সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তা সুরক্ষাচাদরে ঢেকে রাখা। সীমান্ত প্রহরী হিসেবে বিজিবি দায়িত্বে থাকলেও তার প্রশিক্ষণ ও অফিসার সেনাবাহিনীরই। তাই সীমান্ত প্রতিরক্ষার প্রকৃত দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপরই ন্যস্ত। সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে হবে।

(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ প্রকাশিত)