শনিবার, ২৪-জুলাই ২০২১, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • চামড়া শিল্পের ১২টা বাজাইলো কে: ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

চামড়া শিল্পের ১২টা বাজাইলো কে: ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০২১ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা:  একটি চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দিতে চাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কোরবানি শেষে চামড়া বিক্রির সময় ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘এই চামড়ার ১২টা বাজাইল কে?’

কোরবানির চামড়া সামনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের দিনে চাইনি কোনো সমস্যা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে। তারপরেও না বলে থাকতে পারলাম না। আপনারা দেখছেন যে আমার সামনে একটি চামড়া আছে। এটা একটি কোরবানির গরুর চামড়া। চামড়াটি যখন কিনতে এসেছেন একজন লোক, তখন আমি আমার কষ্টটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার না করে থাকতে পারলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই চামড়া আমার বাবার আমলে ৮০০-৯০০ এমনকি এক হাজার টাকায়ও বিক্রি করা করেছে।’

একজন লোককে দেখিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘উনি এসেছেন আমার কাছ থেকে চামড়া নিতে। উনারে বললাম যে, কত টাকা দেবেন। চামড়ার টাকা আমরা সাধারণত গরিবদের দেই, অথবা মাদরাসায় দিয়ে দেই। উনাকে বললাম যে কত টাকা? উনি বললেন, মাগনা দেবেন কি-না, দিলে নিতে পারি, আর না হলে ৫০ টাকা দিতে পারি। চামড়ার দাম উনি আমাকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা দিতে চান।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘যে মাদরাসাগুলো চামড়ার টাকা দিয়ে চলত। এখন এই মাদরাসাগুলো চামড়া নিতে চায় না।’ এ পর্যায়ে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট একজনের কাছে চামড়ার বিষয়ে জানতে চান সুমন।

সেই লোক বলেন, ‘আগে যে চামড়া সংরক্ষণ করা হতো ওই চামড়ার টাকা দিয়ে মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থাকা ছাত্রদের এক বছরের খানা হতো। একটা চামড়া ৫০ টাকা দিয়ে কিনে লবণ দিয়ে এক সপ্তাহ রাখলেও মিনিমাম ২০০ টাকা খরচ হয়। পরে আবার ঢাকা থেকে লোক আসলে একশ টাকা দাম হয়। ফুল লসে আছে মাদরাসা।’

[৮] ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘চামড়ার টাকা দিয়ে মাদরাসার ছাত্রদের খাওয়া-দাওয়া হতো। এখন তো খাওয়া-দাওয়া শেষ। এতিম বাচ্চাদের অবস্থান হয়ে গেল… কারণ পুরো দেশই তো এখন এতিমের মতো আছে।’ 

পাশে অটোতে রাখা চামড়া দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এসব চামড়া একদম ফ্রি। কোনো চামড়ার দাম নাই। আগে যে চামড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হতো, কী কারণে, আমি জানতে চাই এই চামড়া শিল্পের ১২টা বাজাচ্ছে কারা? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দুই নম্বরি আছে।’

সুমন বলেন, ‘আমি চামড়া শিল্পের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে এটা জানি গরিবের হক ছিলো এর উপর। মানুষের দানের টাকায় গরিব ছাত্ররা চলে, অথবা এই চামড়ার টাকা আমরা সব সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ে গরিবদের বণ্টন করে দিতাম। আমি সারা জীবনই দেখছি বাবা-মায়েরা চামড়ার টাকা গরিবদের দিতেন।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, যারা কোরবানি দিচ্ছেন তাদের বলব, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলব, যে শুধু ঈদের দিন কোরবানি না দিয়া নিজেদের স্বার্থ একটু কোরবানি দেন অন্যান্য সময়। তাহলে হয়তো সাধারণ নির্যাতিত মানুষরা চামড়া দিয়ে কিছু করতে পারবে। বিশেষ করে অনেক ছাত্র, যাদের চলার ব্যবস্থা হয় চামড়ার টাকার মাধ্যমে।’

শীর্ষনিউজ/এম