বুধবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • চার ঘণ্টায় ১৫ কিমি. উত্তাল মেঘনায় সাঁতরালেন বৃদ্ধ

চার ঘণ্টায় ১৫ কিমি. উত্তাল মেঘনায় সাঁতরালেন বৃদ্ধ

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, নরসিংদী : নরসিংদীতে শহিদুল ইসলাম শহিদ নামে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ টানা চার ঘণ্টা উত্তাল মেঘনা সাঁতরেছেন। সকাল ৮টায় রায়পুরা উপজেলার মনিপুরা ঘাট থেকে শুরু হওয়া সাঁতার দুপুর ১২টায় শেষ হয় নরসিংদী সদরের থানার ঘাট এলাকায়।

শহিদুল ইসলাম শহিদ (৬৩) পেশায় একজন কৃষক। তিনি রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের দড়ি বালুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন আগে বকুল মিয়া নামে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা ঘাটে আসেন ৪২ কিলোমিটার নদী সাঁতরে। এটা নিয়ে কয়েক দিন আগে গ্রামের চায়ের দোকানে কথা বলছিলেন শহিদুল ও গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি।

সেখানে শহিদুল বলেন, তিনিও মেঘনায় একটানা সাঁতার কাটতে পারবেন। এ সময় শফিক মিয়া নামে একজন ঘোষণা দেন তিনি যদি রায়পুরার মনিপুরা ঘাট থেকে নরসিংদী সদরের থানার ঘাটের ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব সাঁতার কেটে যেতে পারেন তাকে এক লাখ টাকা দেবেন। পরে জালাল মিয়া নামে আরেক গ্রামবাসী ঘোষণা দেন তিনিও ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেবেন।

শহিদুলও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে ঘোষণা দেন- পুরস্কারের দেড় লাখ টাকা তিনি বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন মসজিদে দান করবেন। এ অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মনিপুরা বাজারের ঘাট হতে তিনি সাঁতার শুরু করেন। টানা চার ঘণ্টা উত্তাল মেঘনার ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছান নরসিংদী সদরের থানার ঘাট এলাকায়। পরে গ্রামবাসী ও সেখানকার স্থানীয়রা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

কাউসার আহমেদ নামে স্থানীয় এক গ্রামবাসী বলেন, এ বয়সেও এই উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। সাঁতার শুরুর সময় থেকে শেষ অবধি আমি সঙ্গে ছিলাম নৌকায় করে। পারবে না, নৌকায় ওঠে যাবে- এমনটা মনে হয়নি উনাকে দেখে। ১৫ কিলোমিটার সাঁতরে গন্তব্যে এসেও বলছেন আরও সাঁতরাতে পারবেন।

দড়ি বালুয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্য মিলন মিয়া বলেন, আমরা গ্রামবাসীসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু অর্থের অভাবে পিলার করার পর আর কাজ করতে পারছিলাম না। শহিদ মিয়া আগে মসজিদের জন্য নিজের জমিও দান করেছেন। এখন পুরস্কারের টাকা দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের সহযোগিতা করছেন। তার এই মহৎ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

বৃদ্ধ কৃষক শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আমার ইচ্ছা ছিল আমি মেঘনা পাড়ি দেব। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে আমার। সঙ্গে নৌকা ছিল কোনো সমস্যা হলে উদ্ধারের জন্য। আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আরও  সাঁতরাতে পারব এমন মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকার মসজিদটির ছাদ ঢালাই অর্থের অভাবে বন্ধ ছিল। আমি পুরস্কারের টাকা মসজিদে দান করেছি; যাতে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করতে পারে। আমি সমাজের বিত্তবানদের মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই