বুধবার, ১৬-জুন ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে দিলেন ব্যবসায়ীরা

তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে দিলেন ব্যবসায়ীরা

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ মে, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: খোলা ভোজ্যতেলের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে বোতলজাতেও। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির তোয়াক্কা না করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

অথচ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাসে এই জাতীয় কমিটি সয়াবিন তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১২২ টাকা, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৪৪ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ৬৮৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। এ ছাড়া পাম সুপার তেল ১১৩ টাকায় বিক্রি হবে। রাজধানীর বাজারগুলোতে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রত্যেককেই এর চেয়ে বেশি দরে ভোজ্যতেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ৩ মে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে তিন টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের দাবি ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল ছিল। গতবছরের জুনের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। যেহেতু মোট চাহিদার ৯৫ ভাগেরও বেশি আমদানি করতে হয়, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

দাম বাড়ার কারণ নেই

এদিকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কারণ নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন। আমদানিকারকরা মনে করে দাম বাড়াতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। তারা প্রতিলিটারে আরও পাঁচ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

১৯ এপ্রিল ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়ে এ প্রস্তাব দেয়। কিন্তু কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই মিল-মালিকরা নিজেরা লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে দেয়।

দেখা গেছে, প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। কোম্পানিভেদে পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৬৯০ টাকায়। কাওরানবাজার, মালিবাগ ও কোনাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৫ টাকা মুনাফা করার সুযোগ কম। কারণ মাপতে গেলে অনেক তেল পড়ে যায়।

এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাজারে খোলা সয়াবিন নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনি জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করবে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিনের দাম স্থিতিশীল। সরকারের পক্ষ থেকেও আমদানির ওপর চার শতাংশ হারে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবার মালয়েশিয়া ও ব্রাজিলে সংরক্ষণ মৌসুম শেষ। তাই বিশ্ববাজারেও দাম বাড়ার সুযোগ নেই।

অপরদিকে তীর ব্রান্ডের সয়াবিন তেল প্রস্তুতকারী ও দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনকে অবহিত করেই লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে রোজা ও ঈদ বিবেচনায় লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমানো হয়েছে। বাজার এখন সেভাবেই চলছে।  

তবে তিনি আশঙ্কা করছেন, ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়াতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও প্রতিটন অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম সাড়ে ১২ শ ডলারের ওপরে। তাদের কাছে কম দামে কেনা তেল নেই বলে জানান তিনি।

শীর্ষনিউজ/এম