সোমবার, ১২-এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • তাজউদ্দিন মেডিকেল: তদন্তে প্রমাণ-দোষী চিহ্নিতের পরও গডফাদারের ছত্রছায়ায় একবছর বহাল তবিয়তে অধ্যাপক আসাদ 

তাজউদ্দিন মেডিকেল: তদন্তে প্রমাণ-দোষী চিহ্নিতের পরও গডফাদারের ছত্রছায়ায় একবছর বহাল তবিয়তে অধ্যাপক আসাদ 

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্পে যন্ত্রপাতি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যাপকভাবে লুটপাটের ঘটনা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে হাতেনাতে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে কলেজটির অধ্যাপক ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. আসাদ হোসেনকে সরাসরি জড়িত থাকায় দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রতিবেদন দাখিলের এক বছর অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুদককে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায় সুস্পষ্ট অভিযোগ দাখিলের পরেও স্বাস্থ্যখাতের গডফাদার হিসেবে পরিচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর তৎপরতায় দীর্ঘ এক বছর অধ্যাপক আসাদ হোসেনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি তার দায়িত্বে বহাল থেকে কলেজের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-লুটপাট অব্যাহত রাখেন। এই ঘটনায় স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তাঁর ছেলে রাহাত মালেক শুভ্রর সঙ্গে গডফাদার মিঠুর ঘনিষ্ঠতা স্বাস্থ্যখাত গোটা দেশে বহুল আলোচিত। দীর্ঘদিন থেকে মিঠু বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখানে বসেই স্বাস্থ্যখাতে কলকাঠি নাড়ছেন প্রভাবশালী ও বিভিন্ন সিন্ডিকেট লোকদের দিয়ে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালককে বহাল-তবিয়তে রাখেন মন্ত্রীকে দিয়েই। 
অবশেষে যখন সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে তখনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাধ্য হয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে। গত সপ্তায় অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো আসাদ হোসেনকে ওএসডি করে তার পরিবর্তে সেখানে পদায়ন করা হয় অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল কাদেরকে।
তবে এখানে গডফাদার মিঠু ও মন্ত্রীর প্রভাব ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। সরকারি চাকরিতে বিধি-বিধানমতে ওএসডি কোনো শাস্তি নয়। অধ্যাপক আসাদকে প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রীর নির্দেশে পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাকে ওএসডি করা হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন. গাজীপুর’ শীর্ষক প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আলোচনাকালে প্রকল্পটির কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই প্রকল্পটির কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব (পার অধিশাখা) একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে অন্য দু’জন ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এএমএম রিজওয়ানুল হক। মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এই তদন্ত কমিটি কলেজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং। সরেজমিন পরিদর্শনকালে কাগজপত্র ছাড়াও বাস্তবে সরকারি বিধি-বিধান ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন এবং সরকারি অর্থ লুণ্ঠনের হাতেনাতে প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ডিপিপি বহির্ভুতভাবে অর্থব্যয় ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা, হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি বা মালামাল ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটি লঙ্ঘন করে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী ক্রয়কাগজ চালানো, অপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের কারণে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি হাসপাতালের গোডাউনে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া, আর্থিক ক্ষমতা লঙ্ঘন করে ক্রয়কাজ করা এবং টেন্ডার আহ্বান ছাড়াই অবৈধভাবে পুরাতন ঠিকাদারের কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করা প্রভৃতি ব্যাপক অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণাদি উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। 
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের (হাসপাতাল পরিচালকের) অথবা বিভিন্ন বিভাগ প্রধানদের নিকট থেকে চাহিদাপত্র (রিক্যুইজিশন) গ্রহণ না করেই বিপুল পরিমাণ মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এ সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতির একটি বিপুল পরিমাণ অংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় গোডাউনে থেকে নষ্ট হচ্ছে যার মূল্য প্রায় ১৮.০৫ কোটি টাকা। এ ধরনের ক্রয়ের কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। ”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫,৯৪,৪৫,৪১৪ টাকা দিয়ে ‘ইএসআর ল্যাব অটোমেশন’ নামক যন্ত্র ক্রয় করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে দেখা যায় যে, এই যন্ত্রটি হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে আছে। এখনো প্যাকেট খোলা হয়নি।  ৫,৯৪,৪৫,৪১৪ টাকার যন্ত্রটি দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময় পড়ে থাকায় প্রতীয়মান হয় যে, হাসপাতালে এ যন্ত্রের প্রয়োজন না থাকলেও যন্ত্রটি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজের বই ক্রয়ের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ ছিল সেটি কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কোটেশন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেডিকেল যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ২০১৮-১৯ সালে কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ২০১৭-১৮ সালে নিয়োজিত ঠিকাদার এর নিকট থেকে ভিন্ন ভিন্ন কার্যাদেশের মাধ্যমে মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ বিভাগীয় প্রধান/ প্রকল্প পরিচালককে সরকারের পরিপত্রে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাতে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের আর্থিক ক্ষমতা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ১১(৬) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো একক কাজ একাধিক প্যাকেজে বিভক্ত করা হলেও মোট অর্থের পরিমাণ অনুমোদনের এখতিয়ার যে কর্তৃপক্ষের থাকিবে, উক্ত যে কোনো প্যাকেজের চুক্তি সম্পাদনের জন্য সকল প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সেই কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।”
কিন্তু ২০১৮-১৯ সালে ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টেন্ডার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। কিন্তু সচিব মহোদয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ লঙ্ঘনপূর্বক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. আসাদ হোসেন ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি পৃথক পৃথকভাবে ক্রয় করেছেন, যা একটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ক্রয়কৃত আসবাবপত্রের অনেকগুলোই এখনো স্টোরে পড়ে রয়েছে। 
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দীর্ঘদিন পরও ব্যবহার না হওয়ায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রয়োজন ছাড়াই কেবল সরকারি অর্থ ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই এ সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। সরকারি অর্থের এ ধরনের অপচয় কাঙ্খিত নয়। ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতির একটি বিপুল পরিমাণ অংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় গোডাউনে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. আসাদ হোসেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে বহাল থেকেই সরকারের কোনো আইন-কানুন, বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করেননি। তিনি খেয়াল খুশিমতো নিজের এবং দুর্নীতিবাজ গডফাদারের স্বার্থে ব্যাপক অপকর্ম চালিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনেই এসব তথ্য উঠে এসেছে। এরজন্য প্রতিবেদনে সরাসরি অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আসাদ হোসেনকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এমন প্রতিবেদন দাখিল করলেও মন্ত্রণালয় অধ্যাপক আসাদের বিরুদ্ধে নিজেরা কোনোই পদক্ষেপ নেয়নি। শুধুমাত্র তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া জন্য। অবাক ব্যাপার হলো, সরকারের এতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বসে যিনি ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম করেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের তদন্তেই প্রমাণিত হয়েছে, আবার মন্ত্রণালয়ই তাকে সেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে রেখে দিয়েছে কোনো রকমের ব্যবস্থা না নিয়ে। এতে সংশ্লিষ্ট মহলে এমন প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে, সেই পদে বসে তিনি যাতে আরো বেশি মাত্রায় দুনীতি-অনিয়ম করেন, এটিই সম্ভবত মন্ত্রণালয় চাচ্ছে। 
সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়। গত ৬ ডিসেম্বর, ২০২০ এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন করা হয়। আর তখনই টনক নড়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। বাধ্য হয় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে। অধ্যাপক মো. আসাদ হোসেনকে সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ফাইলও উপস্থাপন হয়। কিন্তু সাসপেন্ডের প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই খবর চলে যায় অধ্যাপক আসাদ হোসেনের কাছে। তিনি যোগাযোগ করেন বিদেশে অবস্থানরত গডফাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে। আর মিঠু তাৎক্ষণিকভাবে এটি মন্ত্রীর মাধ্যমে থামিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ফাইলটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে শাখায় ফেরত পাঠানো হয়। নতুন করে ফাইল উপস্থাপন করা হয় তাকে ওএসডি করার প্রস্তাব দিয়ে।অবশেষে গত সপ্তায় তাকে ওএসডি করা হয়।
স্বাস্থ্যখাতের গডফাদার মিঠুর সঙ্গে মন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং তার ছেলে শুভ্রর সম্পর্কের কথা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে জানাজানি ছিল। এটি এক ধরনের আলোচনার বিষয়ও ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারের কাছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রতিবেদনও পেশ করেছিল। তবেবিশেষ করে সিএমএসডির সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদ উল্লাহর বক্তব্যের পর গত বছর এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় বয়ে যায়। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদ উল্লাহকে সিএমএসডি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর তিনি  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন যে, স্বাস্থ্যখাতের গডফাদার মিঠুর সঙ্গে মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর ছেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মন্ত্রীর ছেলের কথা অনুযায়ী মিঠুকে কাজ না দেয়ার কারণেই তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের কাছেও তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে বিগত সময়ে শত শত কোটি লুটপাট হয়েছে। যার একটি সামান্য অংশ উঠে এসেছে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন এই তদন্তে। অধ্যাপক মো. আসাদ হোসেন ২০১৬ সালে এখানে অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক পদে আসেন। তার আগে থেকেই এই লুটপাট চলছিলো। অধ্যাপক আসাদ হোসেন এই পদে আসার পর আগের ধারাবাহিকতায় মিঠু চক্রের লুটপাট চলতে থাকে, এমনকি এক পর্যায়ে এই লুটপাটের প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। মিঠুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে মেডিকেল কলেজটিতে একটি রুমও অঘোষিতভাবে বরাদ্দ দেন অধ্যাপক আসাদ হোসেন। মেডিকেল কলেজের একটি রুম অবৈধ দখলে রেখে বাইরের মাস্তান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হলেও অধ্যাপক আসাদ তাতে কর্ণপাত করেননি। বরং মিঠুকে দিয়ে তাদেরকে হুমকি-ধমকির মাধ্যমে দমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা লোপাটের মূল হোতা অধ্যাপক আসাদ হোসেনকে ওএসডির মাধ্যমে নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারীরা।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রকাশিত)