সোমবার, ১৭-মে ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ‘মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’: শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও এতো আতঙ্ক!  

‘মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’: শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও এতো আতঙ্ক!  

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০২১ ১২:১৬ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বিএনপির আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক শক্তি আর অবশিষ্ট নেই বা বিএনপির দ্বারা আর আন্দোলন হবে না- এমনটি বোঝাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রায়ই এই বলে কটাক্ষ করে থাকেন, ‘মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’। অথচ বিএনপি যখন মাঠে নামার উদ্যোগ নিয়েছে, আর তখনই সরকার যেন মহা টেনশনে পড়ে গিয়েছে। সবেমাত্র একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে সরব হওয়ার চেষ্টা করছে দলটি। কিন্তু বিএনপির ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচিতেই বাধা দেওয়া হচ্ছে কোনো রকমের গণতান্ত্রিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। যদিও এসব কর্মসূচি একেবারেই শান্তিপূর্ণ। চালানো হচ্ছে পুলিশি হামলা। সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মামলা, নেওয়া হচ্ছে রিমান্ডেও। তবে এবার তাতেও থামছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। একটি সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তী সভা-সমাবেশে উপস্থিতি কমছে না। বরং আরও বাড়ছে। আগের সব সময়ের চাইতে কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কর্মীদের সাহসী ভূমিকাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশি হামলা হয়েছিল। বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহীর সমাবেশে পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে। তল্লাশির নামে চরম হয়রানি করা হয়েছে। লোকেরা যাতে সমাবেশে আসতে না পারেন সেজন্য একদিন আগে থেকে পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে সাধারণ মানুষকেও দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। তবুও থেমে নেই বিএনপি। সরকারি বাধার মধ্যেই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজধানীতে ফের দুটি সমাবেশের ঘোষণা আসলো। ঢাকা উত্তর সিটির সমাবেশটি ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশের ২৩ শর্ত এবং কয়েকবার স্থান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ সিটিতে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে ১৬ মার্চে। ঢাকার বাইরেও একের পর এক বৃহৎ কর্মসূচি পালন করছে। এদিকে এখন থেকে সকল নির্বাচন বয়কটেরও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঘোষণাটি এসেছে অনেকটা হঠাৎ করেই। এমন ঘোষণা এবং টানা কর্মসূচিতে সরকার বেকায়দায় পড়েছে বলেই মনে করছেন কেউ কেউ। সরকারের নানা ব্যর্থতার মধ্যে রাজপথে বিএনপির টানা কর্মসূচির গতিপ্রকৃতি সঠিক কোন দিকে যায় না নিয়ে অনেকটা টেনশনে আওয়ামী লীগে নীতিনির্ধারকরা। আর সেকারণেই বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, সৃষ্টি করা হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। সরকার ও আওয়ামী লীগের ভেতরে নানা টেনশন থাকলেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবরের মতোই বলে আসছেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’।
কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ তবুও কেনো বাধা?
কঠোর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তারপরও ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের এ পর্যন্ত রাজপথে বেশ সক্রিয় বিএনপি। নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে মাঠে রয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপিকে খুব বেশি শ্রমও দিতে হচ্ছে না। বেলা ১২ টায় সমাবেশের সময় নির্ধারিত থাকলেও সকাল ১০টা আগেই সমাবেশ স্থলে মানুষের ঢল নামছে। কোনো কর্মসূচির নির্ধারিত সময় দুপুর দুইটায় থাকলেও ওই সমাবেশে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত হচ্ছেন ১১টার আগেই। সরকারি হয়রানি-নির্যাতনের ভয়-আতঙ্ক কাটিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে সরকার পতনের মতো কোনো কর্মসূচি না হলেও অনেকটা ন্যাক্কারজনকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। বিএনপির তরফে জানা গেছে, শুধুমাত্র কর্র্মীদের চাঙ্গা রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে রয়েছে দলটি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও অবাক হচ্ছেন। ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট, দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জিয়াউর রহমানের বীর-উত্তম খেতাব প্রত্যাহার প্রস্তাবের প্রতিবাদে দেশের ছয় সিটিতে সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। আর তখনই অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে সরকার। বলা যায়, এই সমাবেশগুলো ভণ্ডুল করতে সরকার পুরনো ফর্মুলায় চলে গেছে। যেসময় বেগম খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যোসি’ নামে ঢাকায় গণজামায়েত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন সরকার পক্ষ থেকে স্থল ও নৌপথ বন্ধ করে দিয়ে সারাদেশ থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। ফলে বিরোধী দলের নেতাকর্মী দূরে থাকুক সাধারণ মানুষও জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় প্রবেশ করতে ও ঢাকা থেকে বের হতে পারেনি। ওই সময় খালেদা জিয়া ঘোষিত কর্মসূচি ছিল সরকার পতন। কিন্তু এখন যেসব ইস্যুতে বিএনপি মাঠে রয়েছে তাতে সরকার পতনের মতো কোনো কর্মসূচি নেই। বলা চলে মৃদু কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিএনপি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যেসব কর্মসূচি পালন করেছে তার সবগুলোই ছিল শান্তিপূর্ণ। তাছাড়া হরতাল বা অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়নি এপর্যন্ত শান্তিপূর্ণ এই সব সমাবেশকে ঘিরে সরকার যে বাধার প্রাচীর তৈরি করেছে তা নজিরবিহীন বলে মনে করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রায়ই তার বক্তৃতায় বলে থাকেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’। ‘বিএনপির রাজনীতি এখন গভীর সমুদ্রে কম্পাসহীন নাবিকের মতো।’ বিশ্লেষকদের প্রশ্ন ওবায়দুল কাদের যদি সত্যি সত্যি মনে প্রাণে বিশ^াস করে থাকেন যে, ‘বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না’ তাহলে সামান্য সমাবেশের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কেনো এতো আতঙ্ক, পথে পথে বাধা, পুলিশি হামলা, কেনো এতো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। কেনো রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে অহেতুক মামলা দিয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যদি তার নিজের বক্তব্য বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে তো বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কথা নয়। ‘বিএনপির রাজনীতি এখন গভীর সমুদ্রে কম্পাসহীন নাবিকের মতো।’ 
দেশের টেলিভিশনগুলো নানা কারণে বিএনপির জনসভা-সমাবেশ আগের মতো দেখতে না পারলেও অনলাইন সংবাদ মাধ্যম, পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কল্যাণে জনগণ কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন এসব কর্মসূচিতে কি পরিমাণে জনসমাগম হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির সমাবেশ বা কর্মসূচিগুলো জনবিচ্ছিন্ন হলে সরকার কেনো পুলিশি বাধা সৃষ্টি করছে। কেনো সমাবেশস্থলের সঙ্গে অন্য আশপাশের জেলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে গণপরিবহনগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। কেনো সমাবেশের আগে তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের হয়রানি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। তাহলে কি আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র যা বলছেন তা তারা নিজেরাও বিশ্বাস করছেন না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও সরকার কি কোনো অজানা আতঙ্কে রয়েছে এই প্রশ্নও উত্থাপন করছেন কেউ কেউ। মানববন্ধন ও সমাবেশের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার এতো কঠোর হলে বৃহত্তর কর্মসূচি বা এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা আসলে সরকার কী পরিমাণে কঠোর হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। 
সেখানে কর্মসূচি সেখানেই বাধা
সম্প্রতি রাজশাহীতে (২ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে আসতে পুলিশ পথে পথে বাধা সৃষ্টি করে। সমাবেশে যাতে সাধারণ মানুষ অংশ নিতে না পারেন সেজন্য আগের দিন থেকে রাজশাহীর সঙ্গে আশপাশের জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। সকল গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। তাছাড়া যেসব মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহনে সমাবেশ স্থলে এসেছেন তাদের অহেতুক তল্লাশির নামে পথে পথে হয়রানি করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা পায়ে হেঁটে সমাবেশ স্থলে এসেছেন তাদেরও বাধা দেওয়া ও হয়রানি করা হয়। 
রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন থেকে জেলা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, হামলার আশঙ্কায় তারা যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা কারো বুঝতে বাকি নেই যে, সমাবেশ বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এটা করা হয়েছে। এর আগে খুলনা ও বরিশালে বিএনপির সমাবেশের সময়ও ঠিক একই রকম দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাস মালিক জানিয়েছেন, প্রশাসনের ইঙ্গিতে ১ মার্চ দিনেই তারা যানবাহন চলাচল কমিয়ে দেন। ১ মার্চ রাতে তাদের ডেকে বলে দেয়া হয় যানবাহন পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ রাখার জন্য। তারা তা-ই করেন। ২ মার্চ ভোর থেকেই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাইরের কাউকেই কোনো ধরনের যানবাহনে চড়ে শহরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শহরের বাইরে থেকে আসা মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস তল্লাশি করে সেগুলো আবার ফেরত পাঠানো হয়। ফলে তেমন কোনো যানবাহন শহরে ঢুকতে পারেনি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে নদীপথে নৌকাযোগে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের ঠেকাতেও পদ্মায় পাহারা বসায় পুলিশ। পদ্মা নদী দিয়ে ২ মার্চ ছোট ছোট শ্যালো মেশিনচালিত নৌকাগুলোকেও শহরের আশপাশে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। ফলে নৌকায় আসা নেতাকর্মীরাও সমাবেশে আসতে পারেনি। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিনও ২৪ ঘণ্টার জন্য পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলার বাস-মিনিবাস-কোচ মালিক সমিতি। তবে বিএনপির সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আবার পরিবহন চলাচল শুরু হয়। তার আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে সমাবেশের দিনেও অঘোষিতভাবে সেখানকার সব পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিএনপির সমাবেশ শেষে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 
তত্ত্বাবধায়কের দাবি জোরারো হচ্ছে
বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহীতে সমাবেশ করেছে বিএনপি। সর্বশেষ, ঢাকা উত্তরেও সমাবেশ করেছে। শত বাধা সত্ত্বেও সমাবেশগুলো ছিল চাঞ্চল্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এসব সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতারা সরকারের নানা দিকের সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন। ওই সব সমাবেশ থেকে এই সরকারের ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটের আয়োজন করার দাবি জানানো হয়। বিএনপি বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে, একটি বিশেষ দলের অনুগত কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয় এটা বার বার প্রমাণিত হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন আর দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন চায় না। একটি গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণ করতে হবে। ‘৫০ বছরে বাংলাদেশ: ফিরে দেখা ও ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট ও মিত্তাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনলাইনে দুই দিনের একটি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মার্চ। ওই সম্মেলনে অংশ নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা মনে করেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশের সামনে এখনো বড় সংকট গণতন্ত্র পুনর্গঠন, মতপ্রকাশে বাধা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনের পর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়নি। রেহমান সোবহান বলেন, ১৯৯১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমিও তার সদস্য ছিলাম। এর একটি বড় অর্জন ছিল সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন ও মুক্ত অবাধ নির্বাচন। সে নির্বাচনকে দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল মনে করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অন্য আরও অনেক কিছুর মতো শুরুটা যেমন, শেষটা সে রকম হয়নি। সেখানে যে আশাবাদ ছিল, দুঃখজনক হলেও সত্যি তা আর হয়নি। তবে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দেশে চারটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে মনে করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের নির্বাচন এবং ২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত সরকারের অধীনে নির্বাচন ছিল সর্বশেষ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এরপর যেসব নির্বাচন হয়েছিল, সেগুলোকে বলা যায়, নন-ইলেকশন। কারণ, সেসব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছিল না, সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রেহমান সোবহান আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর চলে গেছে, একটি কার্যকর নির্বাচনব্যবস্থা গঠন করা যায়নি। সংসদও অকার্যকর, যেখানে কারও জবাবদিহির ব্যাপার নেই। রেহমান সোবহান তাঁর বক্তৃতায় সংসদে ব্যবসায়িক শ্রেণির আধিপত্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি এও বলেন, সংসদ সদস্যরা তাঁদের অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে সংসদ সদস্য পদ ব্যবহার করেন এবং তাঁরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
রাজপথে সাহসী ভূমিকায় কর্মীরা
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে রাজপথ ছিল আন্দোলন-সংগ্রামে মুখর। বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারি নির্যাতনের মুখেও রাজপথে ছিলেন। তবে ওই সময় বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে ছিলেন না। আবার কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে অভিযোগ ওঠে তারা কর্মসূচির আগের রাতে ফোন বন্ধ রেখেছেন। ফলে নেতাকর্মীরা সঠিক নির্দেশনা পাননি। কিন্তু এখনকার অবস্থা সে রকম নয়। এখন কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে সক্রিয় ভূমিকায়। তখনকার মতো রাজপথে পুলিশি হামলা এখনও হচ্ছে, কিন্তু তখন কর্মীরা মারধরের শিকার বেশি হতো এখন নেতারাও মারধরের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীতে দলীয় এক কর্মসূচিতে কর্মীদের সঙ্গে পুলিশি হামলার শিকার হতে দেখা গেছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। তাছাড়া এবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হলেও বিএনপির কর্মীরা রাজপথ ছাড়ছেন না। আগে দেখা যেতো একটি কর্মসূচিতে হামলা হলে, মামলা ও নির্যাতন হলে পরবর্তী কর্মসূচিতে লোক সমাগম কমে যেতো। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, এবার হামলা-মামলা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকলেও কর্মসূচিতে কর্মীদের উপস্থিতি কমেনি, বরং তারা সাহসী ভূমিকায় রয়েছেন।
বৃহত্তর ঐক্য ও রাজপথে সংগ্রাম
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ছয়টি মহানগরে সিরিজ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব সমাবেশ শেষ হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো প্রস্তুতি নেবে বিএনপি। ৩০ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হবে। মনে করা হচ্ছে সেই মহাসমাবেশ থেকে বড় ধরনের কর্মসূচি আসবে। এদিকে মাঠপর্যায়ে দল গোছানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে। মতভেদ ভুলে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জোর চেষ্টা চালাবে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির আসলেও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। আন্দোলনের মূল মাঠ রাজধানী ঢাকাকে প্রস্তুত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। এজন্য বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকাকেন্দ্রিক বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোকেও আন্দোলনমুখী করে পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, মান-অভিমানে দল থেকে দূরে সরে যাওয়া নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। যোগ্য ও ত্যাগী হিসেবে পরিচিত এসব নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের একটি বড় অংশ রয়েছেন রাজনীতির বাইরে। তাদের টার্গেট করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, দলগোছানোর পাশাপাশি সরকারবিরোধী বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও অনেকটা এগিয়ে আনা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে ডান-বাম সব মতাদর্শকে এক কাতারে, এক মঞ্চে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকেও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত এই দুই জোট কোনো তৎপরতা না চালালেও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন তাদের আরও সক্রিয় করার কাজ চলছে। পাশাপাশি আরও নতুন দলকে এ দুই জোটের আওতায় নিয়ে আসার কাজও শুরু করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
রাজনীতি চর্চা ও নাগরিক স্বাধীনতা একদমই কম
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে কথা বলার অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করলেও সরকার জনগণকে সেই সাংবিধানিক অধিকার থেকে বরাবরই বঞ্চিত করে আসছে। বিশেষ করে দেশের বিরোধী দলগুলোকে মাঠে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। সাধারণ কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও বাধা নেমে আসে পুলিশি হয়রানি ও ধরপাকড়। এটা রাজনীতিতে সুস্থধারা বলে কখনোই বিবেচিত নয়, তবুও সরকার করে যাচ্ছে। দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একাধিক কর্মসূচি পালন করলেও বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি সরকার। বিশ্লেষকরা এটাকে রাজনীতিতে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন। ইতিপূর্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে এবং কার্যালয় কার্যত বেষ্টন করে রাখে। বিএনপি আহূত সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কিছু ঘটতে পুলিশের পক্ষ থেকে তখন এমন অযুহাত দেওয়ার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা হয়নি। এখনও বিএনপি কোনো সভা-সমাবেশ ডাকলে পুলিশ সেই কমন বক্তব্য দিয়ে আসছে। অথচ একই সময় আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করে আসছে। বিশ্লেষকরা এটাকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার প্রকাশই নয়, গণতান্ত্রিক রীতিরও পরিপন্থী বলে মনে করেন।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফ্রিডম হাউজ’ নামের একটি সংস্থার বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার চর্চা ও নাগরিক স্বাধীনতা একদমই কম। সংস্থাটির ২০২১ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ‘আংশিক স্বাধীন’ দেশগুলোর মধ্যে তলানিতে বাংলাদেশের অবস্থান। এ বছর বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৩৯ (১০০-এর মধ্যে)। এর মধ্যে বাংলাদেশ রাজনৈতিক অধিকারে ৪০-এ ১৫ এবং নাগরিক স্বাধীনতায় ৬০-এর মধ্যে ২৪ পেয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে একই অবস্থানে থাকলেও ২০১৯ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪১ ও তার আগের বছর ২০১৮ সালে ছিল ৪৫ এবং ২০১৭ সালে ছিল ৪৭। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রিপোর্টটি অবসোলুটলি বায়াসড ও আনসাবস্টেনশিয়েটেড (পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন)। দক্ষিণ এশিয়ায় ২৭ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তান, ২৭ ও ২৮ স্কোর নিয়ে যথাক্রমে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চল ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চল স্বাধীন নয় তালিকায়। আর ৩৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান আংশিক স্বাধীন দেশের তালিকায় তলানিতে স্থান পেয়েছে। এরপরেই বাংলাদেশের অবস্থান (স্কোর ৩৯)। সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে- রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা। রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্লুরালিজম বা বহুত্ববাদ ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ, সরকারের কার্যকারিতা, নীতি-নির্ধারণী ব্যবস্থা, ক্ষমতার ব্যবহার ও স্বচ্ছতা সম্পর্কিত নানা বিষয়। অন্যদিকে নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিশ্বাস, মানবাধিকার সংস্থাসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা, আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থা, ব্যক্তি স্বাধীনতা। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে এমন মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আর কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না বিএনপি
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ব্যর্থতা ও বে আইনিভাবে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে আসন্ন অবশিষ্ট পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনগুলোতে অংশ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্প্রতি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানানো হয়। জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার দাবি আরও জোরালো এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখাসহ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্তটি এমন সময় ঘোষণা করল যখন ১১ এপ্রিল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়- এটা সবার কাছে প্রমাণ করতে পেরেছে বিএনপি। ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগের রাতে হয়েছে’। এই অভিযোগ তুলে সে সময় এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, পৌরসভা-উপজেলা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি নির্বাচনেই নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শেষ করে। সম্প্রতি এটি নিয়ে স্থায়ী কমিটির কয়েকটি বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা-উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যা হয়েছে, তাতে আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিএনপি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে বলেই চরম প্রতিকূল অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ গ্রহণকরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করবার যোগ্য নয়। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এই নির্বাচন কমিশনের কাজ। ফলে আমরা আর স্থানীয় নির্বাচনে যাচ্ছি না। অবশ্য জানা গেছে, শুধু স্থানীয় নির্বাচনেই নয়, আগামীতে আর কোনো নির্বাচনেই বিএনপি অংশ নেবে না।

(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৫ মার্চ ২০২১ প্রকাশিত)