সোমবার, ১২-এপ্রিল ২০২১, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও রক্তক্ষরণ: মোদী বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও রক্তক্ষরণ: মোদী বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০২১ ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালন করার কথা থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্রে করে সেটি অনেকটা ব্যর্থ হয়েছে বলা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানরা সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহজুড়েই নানা ধরণের প্রতিবাদ হয়। তবে ২৫ মার্চ থেকে পরিস্থিত হঠাৎ করেই অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঢাকার মতিঝিলে ছাত্র অধিকার পরিষদের মোদি বিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশে পুলিশি হামলা হয়, সেখান থেকে অনেককে আটক করা হয়। পরে ৫০ জনকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয় ৩০ জনকে। ২৬ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। মুসল্লিদের আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন। মোদীর আগমনের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখান। এসময় পুলিশ গুলি চালালে তিন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পুলিশের গুলিতে হাটহাজারীতে ৪ জন নিহতের প্রতিবাদে বি-বাড়িয়ায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। বিক্ষুব্ধরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় রেলস্টেশনে অগিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিতে সেখানেও এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঢাকায় মোদী বিরোধী বিক্ষোভে আরও ২ জন নিহত হয়েছে উল্লেখ করে একইদিন মোট সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। এদিকে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় বি-বাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে আরো ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গুলিতে বহু মানুষ হতাহতের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের সর্বত্র ইন্টারনেট ও ফেসবুক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি, ২৭ মার্চ দেশজুড়ে পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজপথে প্রতিবাদীদের ওপর গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ২৭ মার্চ ঢাকার বিভিন্ন রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন বিক্ষোভ করে। ২৭ মার্চও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। ছাত্রদল ও যুবদল ঢাকায় বিক্ষোভ করে। সিলেটে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ সমাবেশ করে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে বিএনপি। একইদিন হেফাজতে ইসলামী জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। তাছাড়া চট্টগ্রামেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ধর্মপ্রাণ মানুষ। নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, মৌলবাদীদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় তা শেখ হাসিনা জানেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক নয়। পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে গিয়ে পৌঁছায় কেউ নিশ্চিত নন। ২৫ মার্চ এর পর থেকে রাজধানী ঢাকায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২৬ মার্চ সেখানে আনন্দমুখর পরিস্থিতি থাকার কথা ছিল, তার পরিবর্তে সর্বত্র বিরাজ করছিল ভয়-আতঙ্ক, পুরো রাজধানীই ছিল ফাঁকা। তাছাড়া হেফাজতের আমীর প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কা বেড়েছে। বিএনপির মহাসচিব এ পরিস্থিতিকে অঘোষিত কারফিউ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছিল, রাজধানী ছিল যানবাহন শূন্য এ ভুতড়ে নগরী। পরিস্থিতি কোনো দিকে গড়ায় তা কেউ বলতে পারছেন না। রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজত। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ছাত্রলীগ বলেছে, এ হরতাল করতে দেয়া হবে না। এসব কারণেই উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র
বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদকারীদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ২৭ মার্চ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি-জামায়াত ও ভিপি নুরের দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বিক্ষোভ করে। এ দিন দুপুরে ঢাকায় একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। তবে কে বা কারা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে না তাৎক্ষণিকভাবে নিশিচত হওয়া যায়নি। মোদি বিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মী একাধিক গাড়ি ভাংচুর করে। ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। ধোলাইখাল মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলের দিকে পুলিশ অগ্রসর হলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা একাধিক গাড়ি ভাংচুর করে। এতে কয়েকজন আহত হন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সারাদেশে মুসুল্লি ও আলেম ওলামাদের ওপর সরকার দলীয় নেতাকর্মীর হামলা, পুলিশের গুলিতে একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড় থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিভিন্ন প্রকার সরকার বিরোধী স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একাধিক গাড়ি ভাংচুর করে। ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। 
এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ করছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। ২৭ মার্চ বেলা ১২টার কিছু সময় পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তাদের বিক্ষোভকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় টহল দেয় পুলিশের এপিসি, সাজোয়া যান। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে উত্তরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২৭ মার্চ সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন মালেকা বানু স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের উত্তরা জোনের আমির মাওলানা নাজমুল হাসান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আমির জোনায়েদ আল হাবিব। ঢাকা-চট্টগ্রামে মুসল্লিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ১০ জন আটক করেছে পুলিশ। ২৭ মার্চ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ভাসানী পরিষদ। বেলা বোরোটার দিকে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সমাবেশ চলাকালে দুদফা বাধা দেয় পুলিশ। সমাবেশ শেষে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। অপরদিকে রাজধানীর মালিবাগ রেল ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। হাতির ঝিল থানার এসআই আবদুল আলিম জানান, শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মালিবাগ পুলিশ বক্সের কাছেই বাসটিতে আগুন লাগে। এতে তুরাগ পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫১৫৫৮) ভেতরের অংশসহ অনেক সিট পুড়ে যায়। অনেকে আতঙ্কে গাড়ির জানালা ভেঙে রাস্তায় ঝাঁপ দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগরে পুলিশ এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২৭ মার্চ শনিবার দুপুরের এ ঘটনায় পুলিশসহ দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সারাদেশে নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এক পর্যায়ে জেলা কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শায়েস্তানগর পয়েন্টে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হন বেশ কয়েকজন।
বি-বাড়িয়ায় ফের গুলিতে নিহত ৫
সর্বশেষ ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সংঘর্ষে আরও ৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার নন্দনপুর বিসিক শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। নিহতরা হলেন- বাদল মিয়া (২৬), জুর আলম (৩৫), সুজন (২৫) , কাওসার (২০) ও যুবায়ের (১৪)। নাম জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তিনজন মারা গেছে। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ।
সুবর্ণ জয়ন্তীর দিনে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, গুলিতে বহু হতাহত
নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকালে ২৬ মার্চ গুলি ও সংঘর্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৪ জন  ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে ঢাকায় আরও ২ জন মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে।  এদিন সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনার জেরে বিক্ষোভ চট্টগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে কয়েক ঘণ্টা। জুমার নামাজ শেষে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মোদি বিরোধী বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য টিয়ারশেল, ছররা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রায়ট কার ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ সময় ২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুসল্লি  সাংবাদিক, পথচারী, পুলিশ ও সাধারণ পথচারী।
ইট-পাটকেল, লাঠির আঘাত, ছররাগুলিসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে আহতদের শরীরে। আহতদের মধ্যে ১৩৪ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছেন। পৌনে ৩ ঘণ্টার সংঘর্ষে মসজিদের আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মোনাজাত শেষ করা মাত্রই মসজিদের উত্তর গেটে কয়েকজন যুবক মোদি বিরোধী স্লোগান দেন। এ সময় আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। স্লোগানরত কয়েকজন যুবককে ধরে সিঁড়ি থেকে নিচে নামিয়ে তারা পেটাতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন বিক্ষোভকারীসহ সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে চলে যান। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ সময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে কয়েকজন মুসল্লিকে গেট থেকে টেনে নিয়ে এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মসজিদের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেন। এছাড়াও পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা, নাইটিঙ্গেল মোড় এবং মসজিদের দক্ষিণ গেটে পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। 
যাত্রাবাড়ীতে অবরোধ 
চট্টগ্রামে ৪ কর্মীর মৃত্যুর খবরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হেফাজত কর্মীরা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ যাত্রাবাড়ীর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী মাদ্রাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হাটহাজারীতে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে আরো অর্ধশত আহত হয়েছে। ২৬ মার্চ দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফরকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের বিক্ষোভে পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে  হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুমার নামাজের পর মিছিল  বের করে। হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের এই মিছিল সামনে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। সংষর্ষে পুলিশকে লক্ষ্য করে হেফাজত কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে কমপক্ষে ৪০ জন হেফাজত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ৪ জনকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে আরো ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ২ জন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ১ জন পথচারী ও বাকি একজন চায়ের দোকানি। হাটহাজারী থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেফাজত কর্মীদের ইটপাটকেলে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। 
উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলার খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিক্ষোভ করেছেন মাদ্রাসা ছাত্ররা। হামলা চালানো হয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে, সদর মডেল থানা ও ফাঁড়িতে। শহরের কাউতলী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশিক (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে তার লাশ নিয়ে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে গেছে মাদ্রাসা ছাত্ররা। সূত্র জানায়, ২৬ মার্চ বেলা ৩টা থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে মাদ্রাসা ছাত্ররা। বিকাল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শোয়েব আহমেদ জানান, বিকালে কয়েকশ’ মাদ্রাসাছাত্র স্টেশনে এসে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্যানেল টিকিট কাউন্টার, প্যানেল বোর্ড ও যাত্রীদের চেয়ার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সিলেটে বিক্ষোভ প্রতিবাদ
ঢাকা ও চট্টগ্রামে মুসল্লিদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং মোদির আগমন প্রত্যাখান করে সিলেটে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলো। ২৬ মার্চ বাদ আসর নগরীর বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি দীর্ষ সময় বন্ধ ছিল যান চলাচল 
চট্টগ্রামের হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। সেখানে মাদ্রাসার ছাত্ররা অবস্থান করছে। সড়কের ওপর থাকা বাঁশের ব্যারিকেড এখনো সরানো হয়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা নাজিরহাট, খাগড়াছড়ি ও রামগড়ের যাত্রীরা। ২৬ মার্চ শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে বন্ধ রয়েছে সড়কটি। ২৭ মার্চ শনিবার সকাল ১০টায়ও দেখা গেছে সড়কটি বন্ধ। হাটহাজারী বাজারের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত আড়াই শ’ র‌্যাব, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির ১০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
উৎসবহীন ঢাকা, গণপরিবহন বন্ধে ফাঁকা
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। রাস্তায় মানুষ নেই। বেশিরভাগ প্রধান রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ। নেই কোলাহল, নেই উৎসবের আমেজ। অথচ প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে পুরো রাজধানী থাকে উৎসবমুখর। ভোর থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলে জাতীয় স্মৃতিসৌধের দিকে। এরপর সারাদিন উৎসব চলে শাহবাগ, টিএসসি, রমনা পার্ক, রবীন্দ্রসরোবর, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসে সেই উৎসবমুখর পরিবেশ যেন শুধুই স্মৃতি। রাজধানীবাসী বলেন, এমনটা হবে আমরা ভাবতেও পারিনি। করোনার জন্য গত বছর স্বাধীনতার উৎসব হয়নি। এবার তো সুবর্ণ জয়ন্তী। এবার তো সাধারণ মানুষকে উৎসব করতে দেওয়া উচিত ছিল। আমাদের জীবদ্দশায় আর কি এমন দিন ফিরে পাবো? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন রুটের সব ধরনের গণপরিবহনও। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষদের। জানা গেছে, মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে চলাচলকারী অর্ধ-শতাধিক রুটের বাস বন্ধ রাখা হয়। এতে করে রাজধানীর উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, প্রগতি সরণী, রামপুরা, মালিবাগসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রভাব পড়ে গোটা শহরেই। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখে গেছে, বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেরুল-বাড্ডা ইউলুপের সামনে, শাহজাদপুর, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্য গণপরিবহনকেও থামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মোটরসাইকেল আরোহীদের চলতে দেয়া হয়নি। পুলিশ আগেই জানিয়ে দেয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে বিমানবন্দর সড়ক, বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, কল্যাণপুর, গাবতলি হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের নবীনগর এলাকায় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ রাখা হবে। এ দিনে এমন ভোগান্তি অতীতে কখনো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকাবাসী।  
রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন
সংঘর্ষ সামাল দিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাতে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা বিজিবির মুখপাত্র পরিচালক লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্যদেও টহল দিতে দেখা গেছে।
প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা
তৌহিদি জনতার বিক্ষোভে হামলায় নেতাকর্মী নিহত ও আহত হওয়ার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকে ২৭ মার্চ শনিবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং ২৮ মার্চ রোববার সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন আমীরে হেফাজত, শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ২৬ মার্চ শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আমীরে হেফাজত বলেন, মোদির আগমনের প্রতিবাদে ২৬ মার্চ ঢাকা বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ী, বি-বাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরত তৌহিদি জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে আনুমানিক ৫ জনকে শহীদ করা হয়েছে এবং গুলি ও টিয়ারস্যাল নিক্ষেপ করে প্রায় ৪০০ প্রতিবাদী তৌহিদি জনতাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এভাবে পুলিশের গুলিবর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনো মেনে নেয়া যায় না। কার নির্দেশে নিরিহ-নিরস্ত্র ছাত্রদেরকে এভাবে হামলা ও শহীদ করা হলো, এর জবাব প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হেফাজত আমীরের ব্যক্তিগত সহকারী ইন’আমুল হাসান ফারুকীর পাঠানো এ বিবৃতিতে হেফাজত আমীর বলেন, তৌহিদি জনতার এ আন্দোলন দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না, এই আন্দোলন ছিলো নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশের এমন বর্বরোচিত হামলা বরদাশত করা যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোদির আগমনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তৌহিদি জনতা। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরতের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। হাটহাজারীতে আমার কলিজার টুকরা চারজন ভাইকে শহীদ করেছে পুলিশ। শহীদদের গা থেকে ঝরা এ রক্ত কভু বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। পুলিশের গুলিতে নিহত তৌহিদি জনতার প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।
যা বলছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সমবেত হওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে ‘সমাবেশে পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা’ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এমন বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। ২৬ মার্চ ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের পর এর জের ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে সংঘর্ষ হয় ও তাতে চারজনের মৃত্যুর খবর উঠে আসে গণমাধ্যমে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে কিছু বাম ও ডানপন্থী সংগঠন গত কয়েক দিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মেদ জাকারিয়া বিবৃতিতে বলেছেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকার সহিংসতার দৃশ্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের আচরণের একটি পরিচিত রূপ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার হামলার শিকার হয়েছে বিশেষ করে এই করোনা মহামারীর সময়ে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আছে। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এগুলোকে সম্মান করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা ও বে আইনি শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। অ্যামনেস্টির দাবি, ওই ঘটনায় একশ’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সংস্থাটি বলছে, গত ২৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে অন্তত ৪০ জন আহত হয়। ২৪ মার্চ সিলেটে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের ঘটনায় ২৫ জন আহত হন। একই দিন রাজশাহীতে দশজন আহত হন। ২৩ মার্চ বিক্ষোভাকারীদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মারধর করছে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যাতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৯ মার্চ ২০২১ প্রকাশিত)