বুধবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়: দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়লো

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়: দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়লো

shershanews24.com

প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০২১ ০৯:২১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে দুদিন আগে প্রেস ব্রিফিং ডেকে ‘অনিবার্য কারণে’ তা স্থগিত করলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এরপর শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় ‘করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে বিধিনিষেধ আন্তরিক ও কঠোরভাবে পালনের আকুল আবেদন’ শিরোনামে। কিন্তু এই বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টিকাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যেসব সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে উঠেছে সেগুলোর কোনো জবাব বা ব্যাখ্যা এই বিজ্ঞাপনে দেয়া হয়নি। বরং টিকা ক্রয় এবং এ বাবদ ব্যয়ের যে ‘গোঁজামিল মার্কা’ হিসাব এই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়েছে তাতে দুর্নীতির থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। ফলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর কারণ, বিভিন্ন সময়ে টিকা ক্রয়ের যে দাপ্তারিক হিসাব দেখানো হয়েছিলো তারসঙ্গে এই বিজ্ঞাপনে দেয়া হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া বিজ্ঞাপনে টিকার দর এবং টিকা বাবদ ব্যয়ের যে হিসাব দেখানো হয়েছে তা ইতিপূর্বে ঘোষিত দরের চেয়ে অন্তত সাত গুণ বেশি।

গত মঙ্গলবার ( ৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং ডেকেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বর্তমান করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যুজনিত পরিস্থিতিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে জরুরি তথ্য-উপাত্ত জানা যাবে, এমনটা ভেবে গণমাধ্যমকর্মীদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই সচিবালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু ১১টার পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে প্রেস ব্রিফিং স্থগিত করা হয়েছে।

এর দুদিন পর শুক্রবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় তাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে- করোনার টিকা কেনা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ডোজ। প্রতি ডোজ কেনা হয়েছে ৩ হাজার টাকা করে। সে হিসেবে টিকা কেনা খাতে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। ওই বিজ্ঞাপনে প্রতি ডোজ টিকার দাম ৩ হাজার টাকা ধরে হিসেব করা হলেও জানানো হয়নি দেশে আসা কোন দেশের টিকা কতো দামে কেনা হয়েছে। তাছাড়া ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা কেনার কথা বলা হলেও দেশে ক্রয় করা টিকা এসেছে মোট ৯০ লাখ ডোজ। স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত ক্রয় করা টিকার মূল্য এবং সংখ্যা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ের ঘোষণা অনুযায়ী- দেশে এসেছে সেরাম উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার মোট ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা। চুক্তি অনুযায়ী টিকা না পেলেও সেরাম থেকে জানুয়ারিতে ৫০ লাখ (কেনা) ও ফেব্রæয়ারিতে ২০ লাখ (কেনা) অর্থাৎ মোট ৭০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। বাকি ৩৩ লাখ (কেনা নয়) বিভিন্ন সময়ে (২১ জুন ২০ লাখ, ২৬ মার্চ ১২ লাখ, ৮ এপ্রিল ১ লাখ) ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া।

স¤প্রতি কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় (কেনা নয়) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ ডোজ মডার্নার টিকা আসার আগে এ সুবিধায় গত ৩১ মে দেশে আসে ফাইজার বায়োএনটেকের ১ লাখ ৬০২ ডোজ টিকা (কেনা নয়)।

অন্যদিকে, স¤প্রতি চীনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় (কেনা) সিনোফার্মের টিকা এসেছে ২০ লাখ ডোজ। চীন গত ১২ মে সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ উপহারের টিকা (কেনা নয়) বাংলাদেশে পাঠায়। এরপর ১১ জুন চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ৬ লাখ করোনার টিকা (কেনা নয়) দেশে আসে। সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দেশে ক্রয় করা টিকা এসেছে মোট ৯০ লাখ ডোজ। কিন্তু বিজ্ঞাপনে ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা কেনার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে জানুয়ারির একেবারে শুরুতেই মানিকগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার প্রতি ডোজের দাম ৪২৫ টাকার মতো পড়বে। তিনি বলেছিলেন, “প্রতি ডোজ টিকার ক্রয়মূল্য ৪ ডলার। সব খরচ মিলিয়ে দাম পড়বে ৫ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে ৪২৫ টাকার মতো। অন্য যে কোনো ভ্যাকসিনের দাম এর চেয়ে বেশি।" এরপর জানুয়ারি মাসে টিকা আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত 'তিনটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে' বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরেও বলা হয়, সেরামের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রতি ডোজ টিকা কিনতে বাংলাদেশকে খরচ করতে হচ্ছে ৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার দাম ৩৪০ টাকার কম।

মন্ত্রীর বক্তব্য কিংবা রয়টার্সের প্রতিবেদন যেটাই বিবেচনায় নেয়া হোক, দেখা যাচ্ছে সেরামের প্রতি ডোজ টিকা কেনা হয়েছে ৩৪০-৪২৫ টাকায়। সুতরাং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞাপনে প্রতি ডোজ টিকার দাম (৩ হাজার টাকা) সাত থেকে নয় গুণ বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আকতার ২৭ মে সাংবাদিকদের জানান, টিকার প্রতি ডোজ বাংলাদেশ ১০ ডলার (৮৪০ টাকা) মূল্যে কিনতে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে, টিকার দাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এ ঘটনার পরপর শাহিদা আকতারকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করার পর চীনের টিকার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তাই আর মুখ খুলেন নি।

তবে ৪ জুন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, "তারা (চীন) ১৪ ডলার করে টিকা দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে, ১৭ ডলার করে বিক্রি করেছে ইন্দোনেশিয়াকে, এখন ওই সমস্ত দেশ এটা জানার পর ওদের ওপর চাপ দিচ্ছে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য। ফলে তারা আমাদের ওপর খুব বিরক্ত হয়েছে। আমরা বলেছি, আমরা তো এটা ইচ্ছা করে করিনি। আমরা তাদের একটা চিঠি দিয়েছি, তবে এখনো কোন রিপ্লাই পাই নাই।''
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ওইদিন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরকে বলেন, "চীনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আমরা দুঃখপ্রকাশ করেছি। কিন্তু এতে আমাদের অবস্থানটা খুব বাজে অবস্থা হয়েছে। আমরা আগামীতে সেই পয়সায় জিনিস কিনতে পারবো না। এখন তারা অন্যদেশে যেভাবে বিক্রি করে, সেই পয়সায়, ডাবল-ট্রিপল দাম পড়বে। ''
এর মাসখানেক পরই অবশ্য চীন থেকে কেনা ২০ লাখ টিকা স¤প্রতি দেশে এসেছে। চীন কতো টাকায় এই টিকা দিয়েছে তা আর জানা যায়নি। কিন্তু অধ্যাপক আবুল বাশারের কথামতো চীন এখন বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা (১৪ ডলার) বা ইন্দোনেশিয়ার (১৭ ডলার) মতো বেশি দামে প্রতি ডোজ টিকা বিক্রি করলেও সেটা ১২০০-১৪০০ টাকার মতো হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞাপনে প্রতি ডোজ টিকার দাম (৩ হাজার টাকা) দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই 

গত এক সপ্তাহ ধরে জাতীয় সংসদ এবং জাতীয় সংসদের বাইরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই সংসদ অধিবেশনের শেষে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার নির্বাচনী এলাকায় আইসিইউ প্রেরণের নামে যে নাটক হয়েছে সে সম্পর্কে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেছেন। এসব সমালোচনা নিয়ে যখন সারা দেশে আলোচনা ঠিক সেই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লাখ লাখ টাকা খরচ করে জাতীয় দৈনিকগুলোতে ঢাউস সাইজের বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এই বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য ছিলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে তার জবাব দেওয়া। কিন্তু সেইসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কোনো জবাবই দেয়া হয়নি। জবাব দেয়া হয়নি, মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট নিয়োগকে কেন্দ্র করে মহা কেলেংকারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের গৎবাঁধা এই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দায় চাপিয়ে যে কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার অনেকগুলোই অনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত ঢালাও এবং অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্যনির্ভর ছিল না। এই বিজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে নিবেদিত দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি এই দুর্যোগের সময় ব্যক্তিগত এবং শালিনতাবর্জিত আক্রমণ অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত এবং হতাশাজনক। এর পর এই বিজ্ঞাপনটিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত অর্থবছরে কি কি কাজ করেছে সে সম্পর্কে একটি ফিরিস্তি দিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো রয়েছে তার সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি। 

১. জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। সেই অভিযোগগুলোর জবাব এই বিজ্ঞাপনে দেওয়া হয়নি। যেমন, বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ছয় সাতবার টেলিফোন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাননি। এমনকি তার সহকারীকে ফোন করলেও তিনি কল ব্যাক করেন নি। 

২. বগুড়া থেকে নির্বাচিত বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য তার এলাকায় আইসিইউ এবং অক্সিজেন সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট করে এই বিজ্ঞাপনে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। 

৩. ডা. দীপু মনি অভিযোগ করেছেন যে, তার নির্বাচনী এলাকায় আইসিইউ বেড পাঠানোর কথা বলে সেখানে একটি হাসপাতালের বেড এবং জাজিম পাঠানো হয়েছে। এই অভিযোগেরও কোনো জবাব নাই। 

৪. প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট ও টেকনিশিয়ানের সংকটে করোনাসহ বিভিন্ন জরুরি টেস্ট নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জরুরিভিত্তিতে মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিলো। কিন্তু মন্ত্রীর এপিএসসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি প্রবণতার কারণে এই নিয়োগ নিয়ে মহা কেলেংকারি বেধে যায়। তদন্তের নামে এখন সেটি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। নিয়োগও বন্ধ রয়েছে। এরও কোনো জবাব নেই। 

৫. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তায় একযোগে যে ১২শ এর বেশি চিকিৎসককে বদলি করলো সেই বদলিতে মৃত ব্যক্তিকেও বদলি করা হলো। এলপিআর এ যাওয়া ব্যক্তিদেরও বদলি করা হলো। ওই বদলির আদেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। কিভাবে মৃত ব্যক্তি এবং অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের বদলি করা হলো সে প্রশ্নের উত্তর এই লাখ টাকার বিজ্ঞাপনে নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার কারণেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ক্রয়ের যে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তারও জবাব এই বিজ্ঞাপনে নেই। 

৬. পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তিপত্রে ভুল করে চীনা ভাষার সংস্করণে স্বাক্ষর করেছে। এরকম দায়িত্বহীনতা কিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করলো তারও কোনো কৈফিয়ত দেয়া হয়নি। 

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপনে এই অভিযোগগুলোর কোনো জবাব না থাকায় এগুলো সত্য বলেই প্রতিষ্ঠিত হলো। বরং এর সঙ্গে টিকার দর এবং ব্যয় নিয়ে যে নতুন যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে দুর্নীতির থলের বিড়ালই বেরিয়ে পড়লো।  
শীর্ষনিউজ/এসএসআই