শনিবার, ২৪-জুলাই ২০২১, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজদের কাচ্চি বিরিয়ানী উৎসব! 

স্বাস্থ্য অধিদফতরে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজদের কাচ্চি বিরিয়ানী উৎসব! 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০২১ ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডটকম, ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমামের নিয়োগ ভারপ্রাপ্তের স্থলে ভারমুক্ত, অর্থাৎ পূর্ণ পরিচালক হয়েছেন তিনি। সেই খুশিতে অধিদফতরে বড় আকারের এক কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ার উৎসব হয়ে গেলো বৃহস্প্রতিবার দুপুরে। এই উৎসবের আয়োজন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক চিহ্নিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মচারী, অধিদফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান এবং পরিচালক (প্রশাসন) নিজে। বৃহস্প্রতিবার দুপুরে চারশ’ কাচ্চি বিরিয়ানির প্যাকেট বিলি করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। টিবি গেটস্থ অধিদফতরের নতুন ভবনে এর আয়োজন করা হয়। আশপাশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, এমনকি মহাখালীস্থ পুরাতন ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকে এ সময় উপস্থিত হন। 

তবে এরকমের উৎসব আয়োজনের তীব্র নিন্দা করেন অনেকে। কারণ, প্রায় চারশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক সঙ্গে উপস্থিতিতে অধিদফতরের বিভিন্ন কক্ষের মধ্যে গাদাগাদির মতো অবস্থা তৈরি হয়। স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিলো না এতে। অথচ সরকার স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য প্রতিনিয়ত জনগণের প্রতি আহŸান জানাচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সারাদেশে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষদের জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিচ্ছে। আর খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরেই এমন একটা উৎসবের আয়োজন করা হলো, যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিলো না? যদিও প্রভাবশালী পরিচালক হাসান ইমাম এবং তার দুর্নীতির সহযোগী ফারুক হাসানের এমন কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমালোচনা করার কেউ সাহস পাননি, কিন্ত ব্যক্তিগত আলোচনায় অনেকেই কড়া সমালোচনা করেন।

ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে ছিলেন ডা. মো. বেলাল হোসেন। দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ৯ আগস্ট ডা. বেলালকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। নতুন নিয়োগ পান ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম। সেই থেকে এতোদিন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বেই ছিলেন তিনি। এখন তাকে ভারমুক্ত করা হলো। পরিচালক পদে যারা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আসেন, পরবর্তীতে পূর্ণ দায়িত্বে পরিচালক হন- এটাই স্বাস্থ্য অধিদফতরে নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ কখনো এর জন্য উৎসব আয়োজন তো দূরের কথা, অফিসের অনেকে এটি জানতেও পারেন না। তাই পরিচালক (প্রশাসন) শেখ হাসান ইমামের ক্ষেত্রে এটিকে উৎসবে পরিণত করাটা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক ঠেকেছে। বিশেষ করে করোনার এই মহামারীকালে, যেখানে গোটা দেশ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে টেনশনে, ঠিক সেই সময়ে খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরেই স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে এমন উৎসবের আয়োজন করার ঘটনা খুবই দু:খজনক, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। যেহেতু পরিচালক (প্রশাসন) হাসান ইমাম নিজেই এবং তার অন্যতম সহযোগী ফারুক হাসান এই উৎসবের আয়োজক, তাই প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। 

এমনকি মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম নিজেও চেষ্টা করে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হাসান ইমাম এখন অনেক ক্ষমতাবান! শুধু এটিই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই মহাপরিচালকের মতামতকে তিনি উপেক্ষা করে চলেছেন। কারণ, তার সঙ্গে রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাবেক এপিএস ড. আরিফুর রহমান সেখ। দুর্নীতির দায়ে এপিএস পদ থেকে বহিষ্কৃত হলেও এখনো এই আরিফ অত্যন্ত ক্ষমতাবান বলে পরিচিত।

উল্লেখ্য, ৯ আগস্ট, ২০২০ পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়নের পর গত ১১ মাসে ডা. হাসান ইমাম অনেক অপকর্ম এবং কেলেংকারির জন্ম দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে চিহ্নিত ও শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদেরকে অধিদফতরে এনে জড়ো করেছেন। এদের দুর্নীতি প্রবণতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত জরুরি নিয়োগের মেডিকেল টেকলোলোজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত স্থগিত হয়ে আছে। এসব অপকর্মে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এপিএস ড. আরিফই।   
শীর্ষনিউজ/ওআর