বুধবার, ১৪-এপ্রিল ২০২১, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
  • অন্যান্য
  • »
  • ‘পরকীয়ায় লিপ্ত হলে যে ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে’

‘পরকীয়ায় লিপ্ত হলে যে ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে’

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৪ মার্চ, ২০২১ ১০:০২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : অন্যের স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেউ যদি নতুন করে বিয়ে পড়ান বা বিয়ের ব্যবস্থা করেন, সেই সম্পর্ক ইসলামী শরীয়ায় জায়েজ কিনা এবং পরবর্তীতে যাকে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন এই সম্পর্কটা বৈধ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হিসেবে গণ্য হবে কিনা?

এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কারোর স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করলে বিয়ে বিশুদ্ধ হবে না। ইসলামী শরীয়ার পরিভাষায় এটাকে বলা হয় বাতিল বিবাহ। বাতিল বিয়ে হল এটা বিয়েই হয় না। আর ভাগিয়ে নেওয়ার কারণে উপরন্তু একটি বড় ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয় মানুষ।

মহানবী (সা.) অন্যের স্ত্রীর দিকে চোখ তুলে তাকানোকে অত্যন্ত চরম অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং খেয়ানত বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে একজনের বিবাহিত স্ত্রীকে তার থেকে ডিভোর্স নেওয়া ছাড়া অথবা তার মৃত্যু ছাড়া, তাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিবাহ করাটা চরম অপরাধ। যে মহিলা নিজে থেকে ভেগে যাবেন তিনিও এই অপরাধে অপরাধী হবেন এবং আমাদের বাংলাদেশে প্রচলিত যে মুসলিম পারিবারিক আইন রয়েছে সে আইনে ৭ বছর কারাদণ্ডের কথা পর্যন্ত বলা আছে। অর্থাৎ এটা দেশীয় প্রচলিত আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কুরআনে ৫ নম্বর পারার সূরা নিসার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, যে সকল মহিলারা বিবাহিত তাদের বিবাহের কোনও সুযোগ নেই। অতএব, কারও বিবাহিত স্ত্রীকে যদি কেউ বিবাহ করে সে বিবাহটি অবৈধ।

কেউ যদি তার স্ত্রীকে তালাক দেন অথবা তার মৃত্যু হয়, তাহলে অন্য কেউ বিবাহ করতে হলেও সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে তিনমাস অপেক্ষা করতে হবে অথবা তিনটি পিরিয়ড তাকে অপেক্ষা করতে হবে, তারপর বিবাহ করা যাবে। অর্থাৎ, এ জাতীয় বিবাহ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত। প্রথম শর্ত হল, বিবাহর জন্য প্রথম স্বামী থেকে ডিভোর্স নিতে হবে এবং সেই ডিভোর্সটা হতে হবে শরীয়াহ সম্মত পদ্ধতি অনুযায়ী।

দ্বিতীয়ত হল, ডিভোর্সের পরে কমপক্ষে তিনমাস বা তিনটা পিরিয়ড অপেক্ষা করতে হবে তারপর অন্যত্র বিয়ে হতে পারে। এরমধ্যে যদি বিবাহ হয় তাহলে সে বিয়ে কোনও অবস্থাতেই বিশুদ্ধ হবে না।

এছাড়া বৈবাহিক অবস্থা বা স্বামী-স্ত্রী অবস্থায় থাকার পরও স্বামীর গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রীর বয়ফ্রেন্ড যদি থাকে, এটি সম্পূর্ণ নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত একটি বিষয়।

এ সম্পর্কে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আপনার সাথে আপনার স্ত্রীর একটি কমিটমেন্ট আছে। আপনি তলে তলে যদি কোনও মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেন অথবা আপনার স্ত্রী যদি অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করে তাহলে সেক্ষেত্রে এটা কেমন যেন আপনি তার সাথে প্রতারণা করছেন, একেবারে স্পষ্ট প্রতারণা। আপনি তাকে ভান করছেন আমি তোমার আছি, অথচ তলে তলে আপনি অন্য কারও আছেন। এটা হল প্রতারণা, প্রতারণা পৃথিবীর সকল সমাজের সকল সভ্যতায় ঘৃণিত একটি কাজ।

অতএব, ইসলামী শরীয়াহ বিশ্লেষণে আসার আগেই আমরা বলতে পারি যে, এ ধরনের প্রবণতা যে আমাদের সমাজে আজকাল বেড়ে চলেছে এবং অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসলামী শরীয়াহ দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। এ জন্যই তো একজন অবিবাহিত মানুষ যদি কোনও মেয়ের সাথে খারাপ কোনও সম্পর্কে লিপ্ত হয়, হারাম বা অবৈধ কোনও সম্পর্কে লিপ্ত হয় তাহলে সেটিকে ইসলামী শরীয়াহ জিনা হিসেবেই নেয়। একজন বিবাহিত মানুষ যদি বিবাহ থাকাকালীন পরকীয়ায় লিপ্ত হন, তিনি যদি অন্য কারও সাথে কোনও সম্পর্ক তৈরি করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহ কিন্তু তার শাস্তি রেখেছে মৃত্যুদণ্ড এবং চরমভাবে মৃত্যুদণ্ড। তো এখান থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় এ ধরনের সম্পর্ককে ইসলাম কিভাবে দেখে। কত জঘন্য হলে তার জন্য চরম শাস্তির ব্যবস্থা ইসলাম রেখেছে।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই