শুক্রবার, ২৬-ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বন্দিদশা থেকে মুক্ত ১১ প্রবাসীর!

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বন্দিদশা থেকে মুক্ত ১১ প্রবাসীর!

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০৫:২০ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ ডেস্ক : দেড় বছরেরও বেশি সময় পাকিস্তানের করাচির ল্যান্ডি জেলখানায় বন্দি থাকা ৮ বাংলাদেশি মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। তবে তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 
মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আটক ব্যক্তিরা মুক্তি পেলে সবার আগে পরিবারের সঙ্গেই যোগাযোগ করেন। যোগাযোগ না করাতে বোঝা যায় যে তারা মুক্তি পাননি। 
বৈধ ভিসায় ওমান গিয়েছিলেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৮ বাসিন্দা। তারা ওমান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাগরে মাছ ধরতে গেলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্রোতের টানে পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। আটক হন পাকিস্তান নৌবাহিনীর হাতে। তিন মাসের জেল হয় তাদের। কিন্তু কারাদণ্ড ভোগ করেও মুক্তি পাননি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মুক্তিতে বাধা নেই বলে আদালত রায় দিলেও তারা আটকই ছিলেন। কারণ তাদের কাছে তখন ছিল না কোনও পাসপোর্ট।
এ নিয়ে গত ২৮ জুন ‘পাকিস্তানের কারাগারে শিকলবন্দি ৯ বাংলাদেশি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্বীকার করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, পাকিস্তানে আটক বাংলাদেশিদের ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেনে, সংবাদ দেখার পর আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। তারা আমাদের জানিয়েছে আটককৃতরা বাংলাদেশি নাগরিক। আমরা সঙ্গে সঙ্গে মিশনকে জানিয়েছি তাদের নিয়ে আসার জন্য। করোনার কারণে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। ফ্লাইট চালু হলে তারা ফেরত আসতে পারবে।
ওই ৯ ব্যক্তি হলেন−নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের চরহেয়ার গ্রামের ছাইদুল হকের ছেলে মো. নবীর উদ্দিন, সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. শাহরাজ, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের নামারবাজার বন্দরটিলা এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ইউসুফ উদ্দিন, নলচিরা ইউনিয়নের ৩নং রানী গ্রামের মো. এছহাকের ছেলে মো. আবুল কাশেম, জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে মো. শরিফ, একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদু মিয়ার বাড়ির খবির উদ্দিনের ছেলে মো. সাহেদ ও ৩নং ওয়ার্ড চরহেয়ার গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. খান সাব, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৬নং পাটারীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড পশ্চিম চর ফলকন গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ও একই জেলার রামগতি উপজেলার সেবা গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মো. ফারুক মিয়া।
ওই বছরের ৯ আগস্ট পাকিস্তানে অবস্থানরত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার আটক ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও প্রিভিয়াস কনভিকশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস রেকর্ড (পিসিপিআর) যাচাই করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন।

১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসসিও) নোয়াখালী জেলার ৮ ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, নাগরিকত্ব, পিসিপিআর, থানা রেকর্ডপত্র, অপরাধ তথ্য এবং জঙ্গি সম্পৃক্ততার তথ্য আছে কিনা তার বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে নোয়াখালী পুলিশ সুপারকে পত্র দেন। ওই মাসের ২৪ তারিখে এসব ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা যাচাই করে ফেরত পাঠান নোয়াখালী পুলিশ সুপার। তাতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। ওরা এখন জেল থেকে বের হয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য টাকাও পাঠিয়েছি। আশা করছি যখনই ফ্লাইট চালু হবে তখনই ফিরিয়ে আনা হবে।
পাকিস্তানে আটক ব্যক্তি
আটক নবীর উদ্দিনের ছেলে ছারোয়ার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাবা বিদেশ যাওয়ার পর দীর্ঘদিন কোনও যোগাযোগ নেই। হঠাৎ পুলিশ ভেরিফিকেশন আসার পর বিষয়টি জানতে পারি। নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করি। মন্ত্রণালয়সহ সব জায়গায় ঘুরতে থাকি। কোনও সাড়া পাইনি। 
গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মন্ত্রী মহোদয় তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এখন যদি তারা জেল থেকে বের হয়ে থাকেন তাহলে কেন আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না? আমার আব্বাসহ অন্যরা যদি মুক্ত থাকেন তবে কারও না কারওর সঙ্গে তো যোগাযোগ হতো। দিন যত যাচ্ছে আমরা আশাহত হচ্ছি। স্বজনদের ফিরিয়ে আনতে যদি আরও টাকা লাগে প্রয়োজনে সেটাও দেবো।
হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শাহরাজের বাবা আবু তাহের বলেন, ছেলে ৬ মাস বা এক বছর পরে আসুক তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা তার সঙ্গে একবার কথা বলতে চাই। গত ১৭ মাস তার সঙ্গে আমাদের একবারও কথা হয়নি। এখন ছেলে বেঁচে আছে কিনা সেটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। আমাদের দাবি অন্তত এক মিনিটের জন্য ছেলের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিক।
শীর্ষনিউজ/ফরিদ