বুধবার, ২২-সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল গোপালগঞ্জের দুই যুবকের

লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল গোপালগঞ্জের দুই যুবকের

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৮ জুলাই, ২০২১ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, গোপালগঞ্জ: লিবিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই যুবক হলেন- মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ধোপাদী গ্রামের একরাম মৃধার ছেলে আফজাল মৃধা ও রাঘদী ইউনিয়নের তপারকান্দি গ্রামের ফজলু মুন্সির ছেলে সজীব মুন্সি। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০/৩৫ বছর।

নিহত আফজালের ভাই আজিজুল মৃধা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের মানবপাচার চক্রের সদস্য আক্কাছ ফকিরের ছেলে ইতালি প্রবাসী ইলিয়াস ফকির ও তার ভাই দুলাল ফকির আমার ভাইকে ইতালি নেয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে দু’দফায় ৬ লক্ষ টাকা নেয়। গত ২০ রমজান ইলিয়াসের ভাই দালাল চক্রের সদস্য দুলাল ফকিরের সহযোগিতায় আমার ভাই আফজাল লিবিয়ায় যায়। সেখানে কিছু দিন অবস্থান করে সে।

সম্প্রতি নৌকাযোগে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়া পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ৩২ দিন জেল খেটে বের হয়ে আবারো ওই দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে আফজাল।

গত ১৯ জুলাই দালাল চক্রের লোকজন লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

এতে আমার ভাই আফজাল ও প্রতিবেশী সজীবসহ আরো অনেকে মারা যায়। লিবিয়া পুলিশ আফজালের লাশ উদ্ধার করে ত্রিপলির একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে বলে জানতে পেরেছি।

নিহত আফজালের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পৌছানোর পর তার বাবা একরাম মৃধা ও মা মিনারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তারা বলেন, আমরা বুকের ধন হারিয়েছি। এভাবে যেন আর কোন মা-বাবার কোল খালি না হয়। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তারা বলেন, মানব পাচারের নামে দালালরা ব্যবসা করে। জোর করে দাললরা যুবকদের নৌকাতুলে দেয় বা জিম্মি করে হত্যা করে। এমনকি মুক্তিপণও দাবি করে। তারা ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের দাবি জানিয়েছেন।

তপারকান্দি গ্রামের সজিব মুন্সির শোকার্ত মা শাহানা বেগম বলেন, আমরা ছেলের সাথে গত ১৮ জুলাই শেষ কথা হয়েছে। তারপর আর কথা হয়নি। দালালরা তাকে জোর করে নৌকায় তুলে দিয়ে হত্যা করেছে। তাকে ইতালি পৌঁছে দিতে রাজৈর উপজেলার সত্যবর্তী গ্রামের দালাল শাহিন সরদার আমর কাছ থেকে ১১ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এখন ছেলেকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

দালাল চক্রের সদস্য ইলিয়াস ফকির, দুলাল ফকির ও শাহিদ সরদার ইতালি এবং লিবিয়ায় থাকেন এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর থানার ওসি মোঃ আবু বকর মিয়া বলেন, বিষয়টি আমরা মিডিয়ার মাধ্যম ছাড়াও তাদের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি।
শীর্ষনিউজ/এম