মঙ্গলবার, ০২-মার্চ ২০২১, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • অসতর্কতার কারণে প্রায়ই রেললাইনে প্রাণহানি ঘটছে

অসতর্কতার কারণে প্রায়ই রেললাইনে প্রাণহানি ঘটছে

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারী, ২০২১ ০১:৪৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা : রেললাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এসিআই লিমিটেডের বিক্রয়কর্মী নূর ইসলাম ও মো. রাকিব। পাশের লাইনে কমলাপুরগামী একটি ট্রেনকে তারা যেতে দেখেন। একই সময়ে তাদের লাইনে চলে আসা ট্রেনের ইঞ্জিনটির আওয়াজ কোনো কারণে তারা শুনতে পাননি। মুহূর্তে ইঞ্জিনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা।

গত ৬ জানুয়ারি রাজধানীর মালিবাগের খিদমাহ হাসপাতাল এলাকায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। অসতর্কতায় প্রাণহানির এমন ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঢাকায় মারা গেছেন অন্তত পাঁচজন। ঢাকা রেলপথ থানা বলছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শুধু ডিসেম্বরেই ২০টি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

ঢাকা রেলপথ থানার ওসি রকিব উল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, রেললাইন ও সংলগ্ন এলাকার সব অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাতেই ইউডি মামলা হয়। পরে সেগুলো তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ মানুষের অসচেতনতা। পাশে রাস্তা থাকলেও অনেকে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। 
কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বা হেডফোনে গান শুনতে শুনতে রেললাইন পার হওয়ায় ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পান না। ইদানীং রেললাইনে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেললাইন পারাপার, লেভেল ক্রসিংয়ে সিগন্যাল অমান্য ও আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ ট্রেনের আওয়াজ শুনতে না পাওয়া। এ ক্ষেত্রে হেডফোনে গান শোনা বা মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন কুড়িল, মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকায় রেললাইনের ওপর বা পাশে অস্থায়ী দোকানপাট বসে। 
ট্রেন এলে বিক্রেতারা পণ্যের পসরা সরিয়ে নেন। ওইসব স্থানে অনেক লোকের সমাগম, কথোপকথন এবং কোথাও কোথাও পাশের রাস্তায় যান চলাচলের তীব্র আওয়াজ থাকে। এতে ট্রেন আসার আওয়াজ শুনতে পান না মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িল এলাকায় রেললাইন অর্ধবৃত্তাকারে বাঁক নেওয়ায় ট্রেন খুব কাছে না আসা পর্যন্ত দেখাই যায় না। ওই এলাকায় বেশি দুর্ঘটনার মূল কারণ এটি। তা ছাড়া অদূরে বিমান ওঠানামা ও পাশের রাস্তায় যান চলাচলের শব্দের কারণেও ট্রেনের আওয়াজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রেললাইনের দুই পাশের অস্থায়ী দোকানপাটের বিক্রেতারা জানান, দুর্ঘটনা কমাতে তারা তৎপর থাকেন। ট্রেন আসার সময়ে কেউ পারাপার হতে গেলে তারা বাধা দেন।

এদিকে, তেজগাঁওয়ের এফডিসি গেটসংলগ্ন রেললাইনের ওপরে বসে ভাসমান বাজার। ঝুঁকি নিয়েই ক্রেতারা সেখানে কেনাকাটা করেন। আবার কারওয়ান বাজার ও মগবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে দেখা যায়, ট্রেন চলাচলের জন্য সিগন্যাল বার নামানো আছে। ট্রেন খুব অল্প দূরত্বে থাকার পরও কেউ কেউ হেঁটে লাইন পার হন। 
এমনকি কৌশলে সিগন্যাল বারের পাশের ফাঁকা স্থান দিয়ে মোটরসাইকেল গলিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা চালান। এতেও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় এমনভাবে পার হতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। রেল সূত্র বলছে, ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশন পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রেলপথে থাকা ২৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের চিত্র প্রায় একই রকম।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঢাকায় চারটি দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৩ জানুয়ারি কারওয়ান বাজারের শুঁটকিপট্টি এলাকায় এক বৃদ্ধ, ৬ জানুয়ারি মালিবাগে দুই বিক্রয়কর্মী, ৭ জানুয়ারি গেণ্ডারিয়ায় এক নারী ও মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট এলাকায় সদ্য চাকরি পাওয়া এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন।

রেলপথ পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলপথের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে পথসভা করেও মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হয়।

শীর্ষ নিউজ/এসএফ