মঙ্গলবার, ২০-এপ্রিল ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • মুশতাক নেই, লিপা একদম শান্ত, কথাই বলেন না, শুধু চেয়ে থাকেন

মুশতাক নেই, লিপা একদম শান্ত, কথাই বলেন না, শুধু চেয়ে থাকেন

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০২১ ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : মুশতাক-লিপার বিয়ে হয় ২০০৫ সালের ৩ জুন। স্বামী আর শ্বশুর-শাশুড়ি, চারজনের সংসারে লিপাই মধ্যমণি। লিপাকে শিশুর মতোই কেয়ার করতেন বাকি তিন জন। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ভাষায়, ‘সর্বক্ষণ কেউ না কেউ সঙ্গে সঙ্গে থেকে ছোট্ট বাচ্চার মতো বড়ো করছেন লিপাকে। আর মুশতাক যেখানেই যেতেন, সঙ্গে লিপা। ফেসবুকে কতো সুন্দর সুন্দর ছবি তাদের।’

২০১৩ সালে পি কে হালদারের কাছে খামার হস্তান্তর করতে বাধ্য হন মুশতাক, জানিয়েছিলেন গণমাধ্যমকে।

‘সম্ভবত কোনও ধরনের চাপও প্রয়োগ করা হয়েছিলো, আর টাকা পয়সাও তেমন একটা দেয়নি।’ বলেছেন বন্ধুদের একজন। মঙ্গলবার দুপুরে আলাপকালে তিনি এও বলছিলেন, ‘২০১৩ থেকে খামারের শেয়ার বাবদ পাওয়া টাকা ভেঙে সংসার চালাতে থাকেন মুশতাক।’

সন্তান না থাকার বেদনা লিপাকে বিপর্যস্ত করতে পারেনি, আচমকা অর্থকষ্ট দুর্বল করে ফেলে। মুশতাক পুরোদস্তুর সৈনিক, দৃশ্যত ভেঙে পড়তেন না। তবে লিপা ডুবে গিয়েছিলেন দুর্ভাবনায়, পারিবারিক সূত্রের খবর। তার মানসিক সমস্যার পূর্ব ইতিহাস নেই। দুবছর আগে মুশতাকের স্বল্প হাজতবাস তার যে নার্ভাস ব্রেকডাউন ঘটায়, তা সেরেও যায় অল্প সময়ে।

করোনাকালে মুশতাকের ঘরেও বেশ টানাটানি অবস্থা শুরু হয়। ৬ মে মুশতাক অ্যারেস্ট হন। করোনার কারণে দেখা বন্ধ, লিপার মধ্যে অসহায়ত্বের আতংক জেগে উঠতে থাকে। শুরুতে মন খারাপ, আস্তে আস্তে খিটখিটে মেজাজ। এরপর ভায়োলেন্ট, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙতে শুরু করেন লিপা। হাসপাতালে নিতে হয়। নিবিড় পরিচর্যায় অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।

গেলো জানুয়ারিতে মুশতাকের জামিন পাওয়ার ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলো পরিবার। জামিন না হওয়ার আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন মুশতাকের স্ত্রী, এবার বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি লিপাকে বাসায় আনা হয় মুশতাককে শেষবারের মতো দেখানোর জন্য। সেদিন তাকে দেখেছেন, এমন একজন জানালেন, ‘আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন এই অর্থে, রাগ বা হিংস্রতা একদমই নেই।’
শীর্ষনিউজ/এম