শনিবার, ১৭-এপ্রিল ২০২১, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে দুর্নীতির অভিযোগ

রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে দুর্নীতির অভিযোগ

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ মার্চ, ২০২১ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, হবিগঞ্জ :  রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রতিটি স্তরেই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পেট্রোবাংলার কমিটিও ৫টি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

গ্যাস প্ল্যান্ট দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনও। তবে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবেই শেষ হয়েছে।

দৈনিক ৪ হাজার ব্যারেল ক্ষমতার এই কনডেনসেট ফ্যাকসনেশেন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট তৈরির প্রকল্প শুরু হয় ২০১২ সালে। প্রকল্পের দরপত্র থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের নানা পর্যায়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। দরপত্রে উল্লেখ থাকলেও চুক্তির সময় ১২টি ভ্যাপার রিকভারির প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে নাইট্রোজেন ব্লাংকেটিং বাদ দেয়া হয়।

১৪ কোটি টাকা খরচে হাইপ্রেসার ভ্যাপার রিকভারির বদলে তৈরি করা হয় এটমস্ফোরিক ভ্যাপার। কেনা হয়নি নির্ধারিত ব্র্যান্ড ও ক্ষমতার জেনারেটরও। ২ মেগাওয়াটের ৩টি জেনারেটরের বদলে বসানো হয়েছে ১ মেগাওয়াটের ৬টি জেনারেটর।

দরপত্র দলিল অনুযায়ী স্টোরেজ ট্যাংকে ১ কোটি টাকার ইন্টারনাল পেইন্ট দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। গ্যাস ও মটরস্পিরিট লাইন তৈরির দরপত্রেও রয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ। স্থাপন করা হয়নি প্রসেস প্ল্যান্ট চালানোর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা একটি সফটওয়্যার। প্ল্যান্টের প্রসেস ক্ষমতা অনুযায়ী ১৭টি ট্যাংকের দরকার না থাকলেও স্থাপন করা হয়ছে অতিরিক্ত ট্যাংক।

এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে গঠিত পেট্রোবাংলার কমিটিও বেশ কয়েকটি অনিয়মও পেয়েছে। কমিটি বলছে, দরপত্র দলিল প্রস্তুত, দরপত্র গ্রহণ খোলা পিপিএ-২০০৬, পিপিআর ২০০৮ অনুসরণ করা হয়নি। জেনারেটর কেনাকাটাতেও অস্বচ্ছতা দেখা গেছে। তবে, এসব অভিযোগ কোনটিই সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষও।

জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লা বলেন, 'এখানে আমার আগেও একজন কাজ করেছে। এখানে যা কাজ হয়েছে সবকিছুর মধ্যে স্বচ্ছতা রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।'

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের কোম্পানি সচিব প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, 'আমার জানা মতে এই অভিযোগ মিথ্যা। কোম্পানি থেকেই এটা যাচাই করে দেখা হবে।'

ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কমিশনকে সহযোগিতা করছেন। সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (এলপিএম) প্রকৌশলী রওনাকুল ইসলাম বলেন, 'দুদক আমাদের কাছে তথ্য চেয়েছে, আমরা সব ধরনের তথ্যই দিয়েছি। কয়েক হাজার পৃষ্টার তথ্য দিয়েছি। এসব তথ্য দেখার পরই হয়তো তারা ডাকবেন।'

রশিদপুরের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টে উৎপাদিত পেট্রোল, ডিজেএল এবং অকটেন সারাদেশে বিপণন করা হয়।  

শীর্ষনিউজ/এম