বুধবার, ০৩-মার্চ ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • পিকে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান-এমডি গ্রেফতার

পিকে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান-এমডি গ্রেফতার

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারী, ২০২১ ০৫:২৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান ও এমডিকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জল নন্দী ও এমডি রাশেদুলকে। জিজ্ঞাসাবাদের পর অর্থ লোপাটের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) পিকে হালদারের মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা ও প্রধান সহযোগী সুকুমার মৃধাকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এদিকে, গত সোমবার দুদকের জব্দ করা ৭৬৯ কোটি টাকার বিষয়ে পিকে হালদারের সহযোগী বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও দুদকে হাজির হননি কেউ।

প্রসঙ্গত, লিজিং কোম্পানির অর্থ লোপাটকারী প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) কানাডার টরেন্টোতে বিলাসী জীবনযাবন করছেন। সেখানে তিনি পাচার করা অর্থ দিয়ে বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। ওই দেশ থেকে তিনি মাঝেমধ্যে দুবাই ও ভারতে আসেন।

এখন তিনি দেশ দুটির কোনো একটিতে অবস্থান করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুসহ সিন্ডিকেটের সহায়তায় কয়েকটি লিজিং কোম্পানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরিয়ে পিকে হালদার দেশ থেকে সটকে পড়েন। এ অর্থের বড় একটি অংশ কানাডা, ভারত ও সিঙ্গাপুর পাচার করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা সরানো হয়। এছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে পিকে হালদার ও তার সিন্ডিকেট।

সব মিলিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ নেই বললেই চলে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আর এর প্রধান কারিগর পিকে হালদার।

পিকে হালদার ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। দেশ থেকে টাকা জালিয়াতির পর ২০১৮ সালে দুই ভাই মিলে ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে কোম্পানি খোলেন। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়।

আর কানাডায় পিঅ্যান্ডএল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয় ২০১৪ সালে। যার পরিচালক পিকে হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই